বিউ সরকার: দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর বিকাশ ভবনে পা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সেখানে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে একটি হাইপ্রোফাইল বৈঠক করেন তিনি। 

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “শিক্ষাকে কোনওভাবেই পণ্য হতে দেওয়া হবে না।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিগত জমানায় কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে শিক্ষা দপ্তরে এসে বৈঠক করতে দেখা যায়নি।

সূত্রের খবর, এ দিনের বৈঠকে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির রাশ টানতে কড়া পদক্ষেপ করছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের সমস্ত বেসরকারি স্কুল, কলেজ এবং বিএড, ডিএলএড ও আইন কলেজগুলির নথিপত্র স্ক্রুটিনি ও অডিট করে দেখা হবে। পাশাপাশি, আপাতত রাজ্যে নতুন কোনও বেসরকারি কলেজ খোলার অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

বিগত সরকারের আমলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি, শিক্ষক-ঘাটতি এবং সরকারি স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পঠনপাঠনের বেহাল দশা নিয়ে বারেবারে প্রশ্ন উঠেছিল। এ দিনের বৈঠকে সেই সমস্ত খামতি পূরণের রুটম্যাপ তৈরি হয়েছে বলে খবর। বৈঠকে উপস্থিত কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানান, দিল্লি থেকে আসা কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে যৌথভাবে দুই সরকারের কাজের রূপরেখা তৈরি হয়েছে। পূর্বতন সরকারের আমলে আটকে থাকা বা থমকে যাওয়া প্রকল্পগুলিকেও দ্রুত সচল করা হবে।

শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও পরিকাঠামো বদলে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান- 

স্কুলগুলিতে ছাত্র ও শিক্ষকের সংখ্যার ভারসাম্য বা অনুপাত বজায় রাখতে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

পুরুলিয়া ও রাঢ়বঙ্গ অঞ্চল থেকে এই কাজ শুরু হয়ে ধাপে ধাপে গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়বে। যে সব স্কুলে ফ্যান নেই, সেখানে ফ্যানের ব্যবস্থা করা হবে। নিশ্চিত করা হবে স্কুলের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও বিশুদ্ধ পানীয় জল।

রাজ্যের ৮১ হাজার স্কুলে এবার থেকে মিড-ডে মিলের রান্না হবে গ্যাসে। পাশাপাশি স্কুলগুলিতে সোলার সিস্টেমও বসানো হবে। আগামী আগস্ট মাস থেকে ইস্কন-এর মাধ্যমে উচ্চমানের মিড-ডে মিল দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকে মিড-ডে মিলের বরাদ্দ ৬ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হচ্ছে।

স্কুল পরিচালন কমিটিতে (এসএমসি) যাতে পড়ুয়াদের মা-বাবারাই চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান হতে পারেন, তার জন্য দ্রুত বিধানসভায় আলোচনা করে আইন লাগু করা হবে।

ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি বা জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় এনে রাজ্যের শিক্ষাকে উচ্চমানের করে তোলা হবে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে, রোস্টার ও সংরক্ষণ নীতি মেনেই মেধার ভিত্তিতে চাকরি দেওয়া হবে।

বিগত সরকারের ওবিসি সংরক্ষণ নীতির জট প্রসঙ্গে শুভেন্দুবাবু বলেন, “আগের সরকারের ভুল নীতি আমরা বিধানসভায় আইন এনে সংশোধন করেছি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের ওবিসি মামলা থেকে রাজ্য সরকার বেরিয়ে আসবে। ফলে যে ৬ হাজার প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা হয়ে গেছে এবং বাকি ৬ হাজারের ইন্টারভিউ বাকি রয়েছে, তা দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।” নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে ইতিমধ্যেই একজন চিফ সেক্রেটারি পদমর্যাদার অফিসারকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন বলেও মুখ্যমন্ত্রী জানান।