মিল্টন সেন,হুগলি: রাজ্যের তরফে হিন্দুস্থান মোটর কারখানার জমি অধিগ্রহণ পর্ব বৈধ ছিল। আগেই সেই রায় দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। তাঁর পরই বিড়লাদের তরফে কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয় দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। সম্প্রতি সেই আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তাঁর পর থেকেই শুরু হয়েছে খালি জমিতে নতুন শিল্প টানার তোড়জোড়। বৃহস্পতিবার হিন্দমোটরের জমি রাজ্যের দখল নেওয়ার বোর্ড লাগিয়ে দিল রাজ্য সরকার। 

কয়েকদিন আগে বন্ধ হিন্দুস্তান মোটর কারখানার জমি অধিগ্রহণ করেছিল রাজ্য সরকার। এবার অতিরিক্ত জেলা শাসক, মহকুমা শাসকের-সহ জেলা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অধিগৃহীত জমিতে রাজ্য সরকারের অধিগ্রহনের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হল।

২০১৪ সালে বন্ধ হয়েছিল হিন্দুস্তান মোটর কারখানা। ইতিমধ্যেই কারখানা সমস্ত যন্ত্রপাতি এবং সেড বিক্রি হয়ে গিয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে অধিগ্রহণের পরবর্তী সময়ে অধিগৃহিত ৪০ একর জমি টিটাগর ওয়াগান কারখানাকে দেওয়া হয়। টিটাগড় ওয়াগন কারখানা সম্প্রসারণের জন্য জমি দেওয়া হয়েছে। কারণ রেলের এসি ইএমইউ কোচ তৈরির বরাত পেয়েছে টিটাগড় ওয়াগন। সেই মর্মে তাদের জমির প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে রাজ্যের কাছে আবেদন জানায় ওই সংস্থা। সম্প্রসারিত ওই জমিতে আগামী দিন তৈরি হবে মেট্রো রেলের কোচ ও ইএমইউ এসি কোচ। অধিগ্রহণ করা বাকি জমিতে নতুন করে শিল্প গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

আরও পড়ুন-  রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে কুকথা, অভিযুক্তকে শাস্তি দিল চুঁচুড়া আদালত!

এশিয়ার প্রথম মোটর গাড়ি কারখানা ছিল হিন্দুস্থান মোটর। তৈরি হত অ্যাম্বাসাডার গাড়ি। এক সময় প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের আধিকারিক থেকে নেতা, মন্ত্রী, আমলা সকলের পছন্দের তালিকার শীর্ষে ছিল এই গাড়ি। কালের নিয়মে সেই গাড়ির চাহিদা ক্রমশই কমতে থাকে। ধীরে ধীরে সেই জায়গা দখল করে অন্য়ান্য নানা কোম্পানির বিভিন্ন মডেলের আধুনিক সব গাড়ি। ধুঁকতে ধুঁকতে রুগ্ন হয়ে এক সময় ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যায় হিন্দুস্থান মোটরের। দীর্ঘ সময়ে পেরিয়েছে। এবার পড়ে থাকা বন্ধ কারখানার সেই জমি ফিরিয়ে নেয় রাজ্য সরকার। অধিগ্রহণ করা সেই জমির ৪০ একর শিল্পের জন্য লিজ দিয়েছে টিটাগড় ওয়াগনকে। বাকি জমিতেও দ্রুত শিল্প হবে, আশাবাদী হিন্দমোটর।