আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যজুড়ে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বেআইনিভাবে টাকা লেনদেনের অভিযোগে বুধবার রাতে বীরভূমের দু'টি জায়গায় হানা দিয়ে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম কৌশিক ঘোষ এবং মিহির চন্দ্র সাহা। 

 

ধৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা স্কুল শিক্ষকতার চাকরি দেওয়ার নাম করে মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার সাহোড়া পঞ্চায়েতের সাদপুর এলাকার একটি পরিবারের তিনজন এবং অন্য আরও তিনজন, মোট ছ'জনের কাছ থেকে প্রায় ৯৩ লক্ষ টাকা হাতিয়েছিলেন। 

 

চাকরি এবং টাকা ফেরত না পেয়ে ২০২৫ সালের জুন মাসে ওই পরিবারের তরফ থেকে বড়ঞা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এতদিন পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু রাজ্যে পালাবদল হতেই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সক্রিয় হয়ে উঠল রাজ্য পুলিশ এবং তারপর গ্রেপ্তার হয় এই দুই ব্যক্তি। 

 

প্রসঙ্গত, এর আগেই মুর্শিদাবাদের বড়ঞার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বেআইনিভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেনের অভিযোগে বর্তমানে ইডি-র হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলবন্দি রয়েছেন জীবনকৃষ্ণ সাহা। 

 

সূত্রের খবর, যে দু'জনকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁরা জীবনকৃষ্ণ সাহার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁরা জীবনকৃষ্ণের এজেন্ট হিসেবেই একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা তুলেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান।

 

রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইতিমধ্যেই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেছে রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের বিগত তৃণমূল সরকার অযোগ্য শিক্ষকদের কাছ থেকে সুদসহ বেতন ফেরত নেওয়ার কোনও ব্যবস্থা করেনি। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসতেই অযোগ্য শিক্ষকদের কাছ থেকে সুদসহ টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া রাজ্য সরকার চালু করেছে। ইতিমধ্যেই এই মর্মে প্রত্যেক জেলার জেলাশাসকের কাছে নির্দেশিকাও পৌঁছে গিয়েছে। 

 

এর পাশাপাশি শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকেরা কোনও রকম দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে সিবিআই তাঁদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চালাতে পারবে বলে ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। 

 

এই আবহে বুধবার বীরভূমের শান্তিনিকেতন থানা এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে কৌশিক ঘোষ এবং সাঁইথিয়া থানার কুনুরি গ্রাম থেকে মিহির চন্দ্র সাহা নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বড়ঞা থানার পুলিশ। 

 

মুর্শিদাবাদ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের জুন মাসে সাহোড়া পঞ্চায়েত এলাকার সাদপুর গ্রামের বাসিন্দা শুভ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি ধৃতদের বিরুদ্ধে বড়ঞা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। 

শুভ্রজিতের দাবি, তিনি নিজের স্ত্রী, দিদি জামাইবাবু এবং তিন বন্ধুর স্কুল শিক্ষকের চাকরির জন্য প্রায় ৯৩ লক্ষ টাকা ধৃত দুই ব্যক্তিকে দিয়েছিলেন। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও কারও চাকরি হয়নি এবং ধৃত দুই ব্যক্তি সেই টাকা ফিরিয়েও দেননি। 

 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেআইনিভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে বলে তাঁদের অনুমান। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁদের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।