আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরবঙ্গের সবুজ ঘেরা বৈকুণ্ঠপুর। সেখানে তৈরি হতে চলেছে এক বিশাল ‘নগর বন’। পরিবেশ রক্ষা, প্রকৃতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং ইকো-ট্যুরিজমকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
রবিবার বিকেলে বৈকুণ্ঠপুরের এই নির্ধারিত এলাকা পরিদর্শনে যান রাজ্যের বন ও পরিবেশমন্ত্রী মনোজ ওরাও। সঙ্গে ছিলেন পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায় এবং বন দপ্তরের একাধিক পদস্থ আধিকারিক।
প্রশাসন সূত্রে খবর, পুরো প্রকল্পটি পরিকল্পনা করা হয়েছে বৈকুণ্ঠপুরের প্রায় ১৫০ হেক্টর বনাঞ্চলকে কেন্দ্র করে। তবে প্রথম ধাপে কাজ শুরু হবে ৫০ হেক্টর এলাকায়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বাকি অংশের কাজ এগোবে।
জঙ্গল ঘিরে তৈরি করা হবে সুরক্ষাবেষ্টনী বা ফেন্সিং। পরিবেশ ও বন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই এগোবে রূপায়ণের কাজ। তবে উন্নয়নের কাজে প্রকৃতির স্বাভাবিক পরিবেশ এবং ভারসাম্য যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, বন দপ্তরের কর্মকর্তাদের অনুরোধেই তিনি বিষয়টি বনমন্ত্রীর নজরে আনেন। এরপরই এলাকা ঘুরে দেখেন তাঁরা। পর্যটনমন্ত্রীর কথায়, “১৫০ হেক্টরের এই বিস্তৃত অঞ্চলে জঙ্গল, নদী এবং ঘাসজমির (গ্রাসল্যান্ড) এক অদ্ভুত সুন্দর মেলবন্ধন রয়েছে- যা দেশে বিরল। এই প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে যদি সঠিক পরিকল্পনা করা যায়, তবে আগামী দিনে এটি ভারতের অন্যতম সেরা ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হয়ে উঠবে।” আন্তর্জাতিক স্তরেও এই নগর বন বিশেষ পরিচিতি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্য দিকে, জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায় এলাকাটির ঐতিহাসিক ও সামাজিক গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি জানান, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে গভীর ভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই বৈকুণ্ঠপুর। দেবী চৌধুরানী ও ভবানী পাঠকের লড়াইয়ের স্মৃতি বহন করে চলেছে এই জঙ্গল। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতি ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের সহাবস্থান এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
বন ও পর্যটন দপ্তরের এই যৌথ প্রয়াস সফল হলে, বৈকুণ্ঠপুরের এই নগর বন দেশের পর্যটন মানচিত্রে তো বটেই, বিশ্বমঞ্চেও নিজের আলাদা জায়গা করে নেবে বলে আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল।
















