আজকাল ওয়েবডেস্ক: বঙ্গ রাজনীতিতে এক অধ্যায়ের সমাপ্তি। প্রয়াত মুকুল রায়। রবিবার গভীর রাতে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক। মৃত্য়ুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।
বাংলার রাজনীতিতে 'চাণক্য' বলেই পরিচিত ছিলেন মুকুল। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া রাজ্য রাজনীতিতে।
বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই অসুস্থ ছিলেন মুকুল রায়। ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে। শারীরিক কারণেই দূরে ছিলেন সক্রিয় রাজনীতি থেকে। মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায় জানিয়েছেন, রবিবার রাত দেড়টা নাগাদ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন বর্যীয়ান রাজনীতিক।
সংবাদ মাধ্যমে শুভ্রাংশু রায় বলেছেন, "অনেক লড়াইয়েই জিতলেও এই লড়াইয়ে হেরে গেলেন বাবা। উনি কষ্ট পাচ্ছিলেন। আমি হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসার পরই রাত দেড়টা নাগাদ বাবার কার্ডিয়াক অ্যাটাক হয়। তাতেই চলে গেলেন উনি। আমার মাথার উপর থেকে ছাদ চলে গেল।"
বাংলার রাজনীতিতে এক বর্ণময় চরিত্র মুকুল রায়। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে ছিলেন কাঁচড়াপাড়ার মুকুল। ধীরে ধীরে তিনিই হয়ে ওঠেন তৃণমূলের 'সেকেন্ড ইন কম্যান্ড'। পরে রাজ্যসভার সাংসদ হন তিনি। সামলেছেন দেশের রেলমন্ত্রী ও জাহাজমন্ত্রীর দায়িত্বও।
পরে অবশ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়েন মুকুল। ২০১৭ সালে যোগ দেন বিজেপিতে। রাজ্য রাজনীতির অতি পরিচিত মুখকে দলের সর্বভারতীয় স্তরে পদধিকারী করে তোলে গেরুয়া বাহিনী। তবে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মুকুল রায়। জিতেও ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক পরেই দল বদল করেন মুকুল। ফিরে আসেন তৃণমূলে।
এর পরেই দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে সরব হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়। বিধানসভার স্পিকার অবশ্য মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করেননি। শেষে মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। হাইকোর্ট মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশ দিলেও সুপ্রিম কোর্ট উচ্চ আদালতের দেওয়া বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে। মানবিক দিক বিবেচনা করেই এই নির্দেশ বলে জানিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত।
