শ্রেয়সী পাল: রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপ নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী জয়ী হলে সেখানকার মানুষ যা চাইবেন তাই পাবেন। শুক্রবার রেজিনগরের তকিপুর হাই মাদ্রাসা ময়দানে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে এসে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে মুখ্যমন্ত্রীর প্রচার সত্ত্বেও রেজিনগর আসনটি 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র দখলে রাখার বিষয়ে সম্পূর্ণ আশাবাদী ওই কেন্দ্রে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের পুত্র গোলাম নবী আজাদ রবিন।
বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র প্রতীকে নওদা এবং রেজিনগর দু'টি আসনে লড়াই করে জয়ী হন। যদিও পরবর্তীকালে হুমায়ুন রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন এবং ঘোষণা করেন ওই আসনে তাঁর পুত্র রবিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
আগামী দু-আড়াই মাসের মধ্যেই রেজিনগর বিধানসভায় উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। শুক্রবার তকিপুরের জনসভায় বক্তব্য রাখতে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই কথাই ঘোষণা করে গিয়েছেন। এর পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, রেজিনগর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী জয়ী হলে দু'টি ব্রিজ দেব, পরিযায়ী শ্রমিকদেরকে বাড়ি ফেরাবো ,যত আবাস যোজনার ঘর লাগে দেব, দু'হাত ভরে দেব। মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রচারের পর আশায় বুক বেঁধেছেন রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি সমর্থকরা। তাঁরা আশাবাদী উপনির্বাচন হলে আসনটি 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র হাত থেকে এবার বিজেপির দখলে যাবে।
সূত্রের খবর, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ অধ্যুষিত রেজিনগর আসনটি বিজেপি এবার পাখির চোখ করতে চলেছে। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী জয়ী হলে বিজেপির পক্ষে গোটা রাজ্যে এবং দেশে প্রচার করা সম্ভব হবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষও এবার বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন। তাই মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়েই রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রচার বিজেপি শুরু করল বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরও রেজিনগর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ের বিষয়ে সম্পূর্ণ আশাবাদী হুমায়ুন পুত্র, রবিন। শনিবার আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হুমায়ুন পুত্র বলেন, "নিজের দলকে জেতানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রীর যে সমস্ত কথা বলা দরকার তিনি তাই বলেছেন। এই বিষয়ে আমার কিছুই বলার নেই। কিন্তু উনি গোটা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, উনি আমারও মুখ্যমন্ত্রী। তাই নিজের দল জিতলেই রেজিনগরে কাজ করবেন এই কথা ঠিক নয়। উনি তৃণমূলের থাকার সময় থেকেই রেজিনগর বিধানসভা এলাকার মানুষ এবং তাঁদের সমস্যা সম্পর্কে অবগত।"
রবিন বলেন, "বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফল যাই হোক আমি চাইব মুখ্যমন্ত্রী তাঁর কথা মতো রেজিনগরের জন্য দু'টি না হলেও কমপক্ষে একটি ব্রিজ যেন ভাগীরথী নদীর উপর তৈরি করে দেন।"
আসন্ন উপনির্বাচনে 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র প্রতীকে নিজের জয়ের বিষয়ে এখন থেকেই নিশ্চিত রবিন। তবে এই বিষয়ে তিনি এখনও বাবা, হুমায়ুন কবীরের উপরই নির্ভরশীল। তিনি বলেন,"আমার বাবার প্রায় ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবন রেজিনগর বিধানসভাকে কেন্দ্র করে। এখানকার মানুষের সুখে দুঃখে আমরা ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। আমার বাবা রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন কিন্তু তাও আমরা রেজিনগরকে ছেড়ে যাইনি। রেজিনগরবাসী আমাদেরকে চেনেন ও জানেন।" তিনি বলেন, "রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা থেকেও নেই। আমরা রেজিনগরে জিতলেও বিরোধী আসনেই বসতে হবে। তবে আমরা সরকারের গঠনমূলক বিরোধিতা করবো,অন্ধ বিরোধিতা নয়।"
হুমায়ুন পুত্র দাবি করেন, "রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে ভাঙন হয়েছে। তবে রেজিনগর বিধানসভা এলাকায় 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'তে কোনও ভাঙন হয়নি। কয়েকজন নেতা বা কর্মী দল ছেড়েছেন এটা ঠিক কথা। দলের কাছে তাঁদের অনেক ধরনের 'চাওয়া-পাওয়া' ছিল। সেই সব কিছু পূরণ না করতে পারার জন্যই তাঁরা দল ছেড়েছেন।"
রবিন বলেন,"আমার বাবা রাজনীতির জগতে বরাবরই বিতর্কিত মানুষ। তাই যাঁরা 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন তাঁরা সকলেই বাবার এই 'রাজনৈতিক চরিত্রের' কথা জেনেই যোগ দিয়েছিলেন। নতুন করে আমার বাবার বিরুদ্ধে কারও কিছু বলার নেই।"
হুমায়ুন পুত্র আরও বলেন ,"রেজিনগরের মানুষ জানে আমরা তৃণমূলে থাকার সময়ও কোনও ধরনের বেআইনি কাজ বা তোলাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আমরা বরাবরই রেজিনগরের মানুষের সুখে-দুঃখে থেকেছি। তাই রেজিনগরের মাটি কাউকে ছেড়ে দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। এই আসন থেকে আমার বাবা জয়ী হয়েছেন। তাই উপ নির্বাচনে আমার সঙ্গে বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দলেরই কড়া টক্কর হবে। জয়ের মার্জিন কী হবে সেই বিষয়ে এখনই আমি কিছু বলতে পারব না।"















