মিল্টন সেন,হুগলি: মঙ্গলবার তারকেশ্বর পৌঁছেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিঁধলেন শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের ফল ঘোষণার পর পরই তৃণমূলের একের পর এক নেতা-মন্ত্রী দল ছাড়ছেন। এ বার সেই নিয়েই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর আন্দোলনকে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। পাশাপাশি, ফলতার সঙ্গে তুলনা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের। 

মঙ্গলবার ধর্মতলায় মমতা ব্যানার্জীর ধর্না নিয়ে তারকেশ্বরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হাতে সংবিধান নিয়ে হাঁটছেন। আমাকে একটা ছবি পাঠিয়েছিল। এত দুরবস্থা আমি জানতাম না। দেড়শোটাও লোক আসেনি। অথচ সাংবাদিক গেছে ২০০ জন। সাংবাদিক না থাকলে আরও করুণ অবস্থা হত। রাজ্যসভা ও লোকসভা মিলিয়ে এতগুলো সাংসদ। শুনলাম মাত্র তিনজন সাংসদ এবং ছ'জন বিধায়ক ওই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছে। ওই দলটার অবস্থাও ফলতার মতো হয়ে গেছে।"

তাঁর সংযোজন, "অভিষেক ব্যানার্জি নাকি বিধায়কদের কুড়িবার করে ফোন করছেন। উনি তো অসুস্থ শুনেছিলাম। অসুস্থ হলে ফোন করা যায় নাকি। শুনেছি স্যালাইন-ট্যালাইন কীসব নাকি চলছে।"

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম তারকেশ্বর এলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদ ভেঙে প্রশাসক নিযুক্ত করছে রাজ্য সরকার। তারকেশ্বর একটা ঐতিহাসিক জায়গা। ডাঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর নেতৃত্বে ১৯৪৬ সালের ৪ ঠা এপ্রিল থেকে ৬ই এপ্রিল এখানে পশ্চিমবঙ্গ ভারতভুক্তি রেজুলেশন পাশ হয়েছিল। ১৯৪৭ এর ২০ শে জুন আমরা বাঙালি হিন্দুদের হোমল্যান্ড পেয়েছিলাম। এবং আমাদের পূর্ব পাকিস্তান বা পাকিস্তান বা তদানীন্তন বাংলাদেশে যেতে হয়নি। আমরা পশ্চিমবঙ্গ। ভারতে বসবাস করছি। বাবা তারকনাথের দর্শন করতে পারছি। বাবার মাথায় জল ঢালতে পারছি। কপালে চন্দন লাগাতে পারছি। ঐতিহাসিক জায়গা। এখানে আমরা তারকেশ্বরে যেহেতু ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রেজুলেশন দিয়েছিলেন। তাই এই জায়গা এবং ২০ শে জুন নিয়ে পরিকল্পনা আছে।"

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "তারকেশ্বর ট্রাস্টি বোর্ডের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ ডিফাঙ্কট করা হয়েছে। আজকেই মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং প্রধান সচিবকে নির্দেশ দেব। এডিএম জেলা পরিষদ অনুজ প্রতাপ সিং কে আমরা প্রশাসক করছি। যেহেতু শ্রাবণী মেলা সামনে। তাই শ্রাবণী মেলা কে কেন্দ্র করে এবারে রাজ্য সরকারের তরফে বাবা তারকনাথের পবিত্র ভূমি এই তারকেশ্বরে শ্রাবণ মাসে, যারা পুণ্যার্থীরা আসেন তাদের জন্য বড় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে তারকেশ্বর মন্দির কে কেন্দ্র করে আমরা কিছু কাজ করব। প্রথম, ওই পবিত্র দুধ পুকুর পাড়ে কি সব রঙ করে রাখা হয়েছে। আগে ওই সমস্ত রঙ পরিবর্তন করা দরকার। আধ্যাত্মিক স্বাতিকতা বা আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই রং নয়। ওটা আগে ঠিক করতে হবে।"