আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বেরোতেই তপ্ত হাওড়ার রাজনৈতিক পরিবেশ। এবার কাটমানি ও ১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে তুমুল ভাঙচুর ও বিক্ষোভ চালালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আমতার রামপুরার কাশমলি এলাকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, কাশমলি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান অঞ্জলি দলুই এবং তাঁর স্বামী তথা এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তরুণ দলুইয়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির ক্ষোভ জমছিল সাধারণ মানুষের মনে। অভিযোগ, সরকারি আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে উপভোক্তাদের কাছ থেকে ২০,০০০ টাকা করে ‘কাটমানি’ নিয়েছেন প্রধান ও তাঁর স্বামী। এখানেই শেষ নয়, ১০০ দিনের কাজের জব কার্ডও নিজেদের জিম্মায় রেখে গরিব গ্রামবাসীদের উপার্জিত মোটা টাকা তাঁরা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ।

নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করে এলাকায়। নিজেদের কুকীর্তি ফাঁস হওয়ার ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত তৃণমূল দম্পতি। রবিবার তাঁদের অনুপস্থিতিতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। উত্তেজিত জনতা প্রধানের বাড়ি ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে। বাঁশ, লাঠি নিয়ে চড়াও হয়ে বাড়ির জানলার কাচ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা স্বপ্না দলুই ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “সরকার ঘর দিলেও প্রধান আমাদের কাছ থেকে কুড়ি হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। জব কার্ডের বই আটকে রাখা হয়েছে। চাইতে গেলে উলটে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। কতদিন আর মুখ বুজে সহ্য করব?”

এই ঘটনার খবর পেয়েই এলাকায় পৌঁছায় জয়পুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিরোধী দলগুলির দাবি, এতদিন পঞ্চায়েত স্তরে যে প্রাতিষ্ঠানিক লুটপাট চালিয়েছে তৃণমূল, ফল প্রকাশের পর তারই জনবিক্ষোভ আছড়ে পড়ছে। শাসকদলের ক্ষমতার দাপট কমতেই সাধারণ মানুষ নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে রাস্তায় নেমেছেন। 

অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব একে বিরোধীদের উস্কানি এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও থমথমে এলাকা।