আজকাল ওয়েবডেস্ক: পায়ে পায়ে বিপদ। কখনও বাঘ বা সাপ, আবার কখনও কুমির। কিন্তু পেট ভরাতে জঙ্গলে যেতেই হবে। কারণ, সুন্দরবনের জঙ্গল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের কাছে জঙ্গল ও নদী পেট ভরানোর একটা বড় মাধ্যম। যার জন্য মৃত্যু বা আহত হয়ে সারা জীবনের মতো পঙ্গু হয়ে যাওয়ার বহু ঘটনা আছে। 

আর এই জঙ্গল নির্ভরতা কাটিয়ে গ্রামের মানুষের বিশেষত মহিলাদের বিকল্প জীবিকার জন্য তাঁদের দক্ষতা বাড়ানো এবং বাঘ সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণকে পাশে নিয়ে চলার লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিল বাঘ সংরক্ষণের জন্য কাজ করা সংগঠন ‘শের’। সুন্দরবনের বাসিন্দাদের দু’দিনের রান্নার প্রশিক্ষণ দিল তারা। শের-এর পক্ষে জয়দীপ কুণ্ডু জানান, এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্যই ছিল প্রান্তিক মানুষের জঙ্গলের উপর নির্ভরতা কমানো। তাঁদের জন্য বিকল্প জীবিকার সন্ধান দেওয়া। তিনি বলেন, “মোট দু’দিন ধরে এই প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে ১৬ জন মহিলার সঙ্গে চার জন পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।” 

এই বিষয়ে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “সুন্দরবনে দিন দিন পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ছে। যাঁরা ঘুরতে আসছেন তাঁরাও চাইছেন উন্নত মানের খাবার এবং সেইসঙ্গে খাবারের বৈচিত্র্য। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই নামী রন্ধনশিল্পীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি এসে শিবিরে অংশ নেওয়া সকলকে বিভিন্ন রান্নার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। যা তাঁদের পরবর্তী সময়ে খুবই কাজে লাগবে।” যাঁরা এই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাঁরা সকলেই সুন্দরবনে আগত পর্যটকদের জন্য রান্নার কাজে যুক্ত। 

দু’দিনের এই কর্মশালায় ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ধরনের রান্না, আধুনিক রন্ধন কৌশল, নতুন রেসিপি পরিচয়, মেনু পরিকল্পনা প্রভৃতি বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শেফ পিনাকী রায়। অংশগ্রহণকারীরা আধুনিক পেশাদার রন্ধনশৈলীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের রান্নার জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ পান।

এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ সংলগ্ন এলাকার মানুষ নিজেদের জন্য বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে মানুষের জঙ্গলের উপর নির্ভরতা কমবে। ফলে বাঘের জঙ্গলের উপর চাপ কমবে। বাঘ ও মানুষের সংঘাত কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ সহাবস্থান সুদৃঢ় হবে।