আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের ফল ঘোষণার পরে পরেই ভাঙনের গ্রাসে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস। সকালে যে বিধায়ক বা সাংসদ মমতার সঙ্গে ছিলেন বেলা গড়াতেই তিনি ত্যাগ করছেন মমতাকে। দলের কর্মীরাও আর থাকতে চাইছেন না। ফিরে যাচ্ছেন বা যোগ দিচ্ছেন কংগ্রেসে। জেলায় জেলায় যোগদানের রীতিমতো হিড়িক। ইতিমধ্যেই কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ পুরসভা হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। চেয়ারম্যান-সহ তৃণমূল কাউন্সিলররা যোগ দিয়েছেন কংগ্রেসে। ফলে এই পুরসভা এখন হাত শিবিরের দখলে। 

রাজ্যের অন্যান্য জেলার মতো কলকাতার লাগোয়া হাওড়াতেও কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন বহু কর্মী। হাওড়া সদর ও গ্রামীন হাওড়ায় একই চিত্র। নির্বাচনের পর থেকে যোগদানের এই উৎসাহ দেখে উৎসাহিত হয়ে নতুন কার্যালয় তৈরিতে জোর দিয়েছে কংগ্রেস দলের নেতা-কর্মীরা। তৃণমূলের এই ভরাডুবি এবং বিধানসভায় ২টি আসন পেয়ে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই আরও জোরদার করেছেন হাত শিবিরের নেতা-কর্মীরা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে যোগদানের ক্ষেত্রে কি কোনও 'ছাঁকনি' রাখবে কংগ্রেস? 

রাজ্য কংগ্রেসের মুখপাত্র মিতা চক্রবর্তী জানান, "আমরা একটা কথা পরিষ্কারভাবে আগেই জানিয়ে দিয়েছি পিছনে কোনও কালির দাগ থাকলে আমরা তাঁকে গ্রহণ করব না। অবশ্য যে ইতিমধ্যেই অপরাধ করে বসে আছে সে বাঁচার জন্য শাসকদলেই ঢুকতে চাইবে। দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় হল এবছরের বিধানসভা নির্বাচনে আমরা প্রতিটি আসনে প্রার্থী দিয়ে এটা বুঝিয়ে দিয়েছি কংগ্রেস এরাজ্যে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। দেশে কংগ্রেস আপোসহীনভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আমাদের নেতা রাহুল গান্ধীর 'ভারত জোড়ো' যাত্রা দেশে কংগ্রেসকে আরও শক্তিশালী করেছে। ফলে দেশে বিজেপির বিরুদ্ধে যদি কেউ লড়তে চান তাহলে কংগ্রেসে তিনি স্বাগত।" 

হাওড়ায় কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার বিষয়ে হাওড়া সদরের সাধারণ সম্পাদক দীপশিখা ভৌমিক জানান, এই কয়েকদিনে হাওড়া সদর ডোমজুড় ব্লকের কোরোলা, উত্তর হাওড়া, মধ্য হাওড়া, দক্ষিণ হাওড়া-সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ১০০০-এর বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছেন। 

 অন্যদিকে হাওড়া গ্রামীণ জেলা কংগ্রেস কমিটির সহ সম্পাদক হাফিজুর রহমান জানান, রাজ্যে পালা বদলের পর প্রধান বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস এর নেতা কর্মীরা নিজদের নানা দুর্নীতিদের নাম জড়িয়ে ফেলেছে। তার ফলে তারা নিজেদের রক্ষা করতেই ব্যস্ত। বাংলার মানুষ জাতীয় কংগ্রের উপর আস্থা রেখেছেন। তার ফলে মানুষ জাতীয় কংগ্রেসের ছায়াতলেই আশ্রয় নিতে চাইছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন দল থেকে দলে দলে অসংখ্য নেতাকর্মী জাতীয় কংগ্রেসের যুক্ত হবার আগ্রহ দেখিয়েছেন। দলের নিয়মবিধি মেনে, তাঁদের ব্যক্তিগত পরিচয় বিশ্লেষণ করার পর যোগদান করানো হবে। দলীয় নিয়ম মেনে প্রক্রিয়া চলছে।