আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেশের গণতন্ত্র, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র মন্তব্য করলেন।
অভিষেক বলেন, দেশের আত্মা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং সংবিধানের মূল্যবোধ রক্ষার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে চলার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি রাহুল গান্ধীর সমর্থন ও উদ্বেগ প্রকাশের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
নিজের বক্তব্যে তিনি গত বছরের একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, তিনি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে পাঁচটি দেশে সফর করেছিলেন এবং অপারেশন সিঁন্দুর উপলক্ষে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে দেশের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। সেই সময় তিনি দেশের স্বার্থে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিষেক অভিযোগ করেন, আজ তিনি রাজনৈতিক হিংসা ও রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট চাপের শিকার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যারা নিজেদের জাতীয়তাবাদের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরে, তাদের রাজনৈতিক আচরণ বাস্তবে ভিন্ন ছবি দেখাচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকার বা ক্ষমতাসীন দলের সমর্থন করলে দেশপ্রেমিক হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু প্রশ্ন তুললে বিরোধিতা ও চাপের মুখে পড়তে হয়। তাঁর দাবি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক বিরোধিতাকে দমন করার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক।
অভিষেক আরও বলেন, তিনি নীতির সঙ্গে আপোস করে স্বস্তিতে থাকার চেয়ে গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়ে চাপের মুখোমুখি হতে বেশি প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা ছিল—ক্ষমতা স্থায়ী নয়, কিন্তু মানুষের ইচ্ছাশক্তি ও জনমত দীর্ঘস্থায়ী।
তিনি বলেন, তিনি শুধুমাত্র মানুষের কাছে দায়বদ্ধ এবং ক্ষমতার কাছে মাথা নত করবেন না। তাঁর মতে, গণতন্ত্রে জনগণই শেষ কথা বলে এবং রাজনৈতিক শক্তির প্রকৃত উৎস মানুষের সমর্থন।
বক্তব্যের শেষ অংশে তিনি বিরোধী ঐক্যের কথাও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, গণতন্ত্রকে দুর্বল করা, বিভাজনের রাজনীতি এবং ভয় ও হিংসার পরিবেশ তৈরি করার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে। তাঁর মতে, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে জনগণের কণ্ঠস্বর, কোনও ভয় বা চাপ নয়।
প্রসঙ্গত, শনিবারই সোনারপুরে মৃত তৃণমূলের দলীয় কর্মীর বাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন অভিষেক। তাকে হেনস্থাও করেন সেখানকার স্থানীয়রা। এরপর তাকে সেখান থেকে বের করে নিয়ে আসে পুলিশ। পরে তিনি হাসপাতালে যান চিকিৎসার জন্য। সেখানে তার সঙ্গে দেখা করতে যান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। এরপর থেকেই এই ঘটনার জেরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।















