আজকাল ওয়েবডেস্ক: নাজিরাবাদের থার্মোকলের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও মর্মান্তিক রূপ নিল। দমকল সূত্রে খবর, আগুন লাগার পর থেকে কারখানার ৬ জন কর্মী নিখোঁজ ছিলেন।

শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, নিখোঁজ ৬ জন কর্মীর মধ্যে ইতিমধ্যেই তিন জনের ঝলসানো মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি তিনজনের খোঁজে এখনও এখনও তল্লাশি চলছে।

ঘটনাস্থলে বর্তমানে দমকলের ১২টি ইঞ্জিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আগুনের তীব্রতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও সম্পূর্ণভাবে আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি এখনও। 

আগুনের জেরে গোডাউনের বিল্ডিংয়ের একাধিক অংশ ধসে পড়েছে, যার ফলে উদ্ধারকাজে বাড়তি সমস্যা হচ্ছে বলে দমকল সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।

নিখোঁজ কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। দমকল ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। কীভাবে আগুন লাগল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন। 

নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত নাজিরাবাদ এলাকায় থার্মোকলের একটি গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাতে প্রায় আড়াইটে নাগাদ হঠাৎ করেই গোডাউনের ভিতর থেকে আগুনের লেলিহান শিখা উঠতে দেখা যায়।

মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা গোডাউনে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ১০টিরও বেশি ইঞ্জিন। দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নেভানোর কাজ চলে।

দমকলের তৎপরতায় আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, সম্পূর্ণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এখনও একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনার সময় গোডাউনের ভিতরে কয়েকজন শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখছে দমকল বিভাগ।

জানা গিয়েছে, গোডাউনের ভিতরে রান্নাবান্নার কাজ চলত। গ্যাসের ব্যবহার, শর্ট সার্কিট অথবা অন্য কোনও কারণে আগুন লেগেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, এক সপ্তাহ আগে তপসিয়ায় আসবাবপত্রের কারখানায় আগুন লাগে। আশপাশের একটি গ্যারেজ ও বাড়িতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

খবর পেয়ে প্রথম দফায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ৫টি ইঞ্জিন। জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার দুপুরে তপসিয়া রোডের একটি সোফা কারখানায় আগুন লাগে। প্রথমে স্থানীয়রাই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর দেওয়া হয় দমকলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় দমকলের এক এক করে ১১টি ইঞ্জিন।

তবে এলাকাটি ঘিঞ্জি হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে দমকলকর্মীদের। পাঁচিল ভেঙে দমকলকর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। তবে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন, আগুন পাশের একটি গ্যারেজও ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই কারখানায় অনেক দাহ্য পদার্থ রয়েছে। সেখানে সোফা তৈরি হয়, সে কারণে আসবাবও মজুত ছিল।

আগুন সেই সব আসবাবে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে। শুক্রবার দুপুরে কারখানায় কাজ চলছিল। ছিলেন কর্মীরা। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন। যতটা সম্ভব আসবাব কারখানা থেকে বাইরে বার করে আনা হয়।