আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিঘার ‘জগন্নাথ ধাম’-এর নাম পরিবর্তন হয়ে ‘জগন্নাথ মন্দির’ হল। এই সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানালেন মন্দিরের ট্রাস্টি ও প্রধান পুরোহিত তথা কলকাতার ইস্কনের সহ-সভাপতি রাধারমণ দাস।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত আদতে দুই প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য নজির।
সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে দিঘার এই মন্দিরের নাম পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাধারমণবাবু জানান, বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে আলোচনাও করেছিলেন। তিনি বলেন, “এখন থেকে এই তীর্থক্ষেত্র ‘দীঘা জগন্নাথ মন্দির’ নামে পরিচিত হবে, এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”
নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তকে ওড়িশার মানুষের ভাবাবেগের প্রতি এক বড় সম্মান বলে মনে করছেন রাধারমণ দাস। তাঁর কথায়, “জগন্নাথদেব সমগ্র বিশ্বের হলেও ওড়িশার পবিত্র ভূমিই তাঁর চিরন্তন লীলাক্ষেত্র। এই নামবদলে যদি ওড়িশার মানুষের আবেগ মান্যতা পায়, তবে সনাতন ধর্মের ভক্ত হিসেবে আমাদের আনন্দের সীমা থাকে না। আমরা সকলেই তো মহাপ্রভুর চরণে বাঁধা এক বৃহৎ পরিবার।”
মন্দিরের প্রধান পুরোহিত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই নামবদলকে কোনওভাবেই বিতর্কের চোখে দেখা উচিত নয়। বরং একে বাংলা ও ওড়িশার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের এক নতুন সুযোগ হিসেবেই দেখা উচিত। আর ভক্তসমাজ ও সরকারের সদিচ্ছার ফলেই এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
কোনওরকম রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাধারমণবাবুর সংযোজন, “আসল জয় কোনও নামের মধ্যে লুকিয়ে নেই। আসল জয় হলো, দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্তের মহাপ্রভুর সান্নিধ্যে আসা। জগন্নাথদেব জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলকেই দু’হাত বাড়িয়ে আপন করে নেন।”
আগামী দিনে এই নবনির্মিত মন্দির ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা, প্রসাদ বিতরণ ও সনাতন সংস্কৃতির এক অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলেই আশা জানিয়েছেন তিনি।















