গোপাল সাহা: বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া জাতীয় স্তরে পশ্চিমবঙ্গসহ বারোটি রাজ্যে শুরু হয়েছিল গত অক্টোবর মাসে ২০২৫। এরপর ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর ৬০ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারদের নাম রয়েছে অমীমাংসিত অবস্থায়। আর সেই তালিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল ভোটের দফা অনুযায়ী প্রার্থী নমিনেশনের শেষ দিনের আগে তালিকা প্রকাশ হবে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা হিসাবে। তবে এর মধ্যেও বদল হতে চলেছে বলেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর।
মূলত এই ৬০ লক্ষের বিচারাধীন তালিকা নিয়ে রাজ্যের শাসক দল সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি (বিজেপি ছাড়া) আন্দোলনে নামে পথে। ধর্মতলায় ধর্নায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সকল নেতা-নেত্রীরা। বিচারাধীন তালিকা নিয়ে বিক্ষোভের পারদ চড়ে তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ধরনা মঞ্চ থেকে সংবাদমাধ্যমে স্পষ্ট জানান, সাপ্লিমেন্টরি তালিকা রাজ্যে ভাগে ভাগে বার করতে হবে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য। যেমন যেমন কাজ সম্পূর্ণ হবে ঠিক তেমনভাবেই তালিকা প্রকাশ করতে হবে। আর তারপরেই নির্বাচন কমিশন তাই নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সেই পথেই হাঁটতে পারে বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে কমিশন সূত্রে। তবে বৈঠকের মাধ্যমেই তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক দপ্তর জানিয়েছেন।
কমিশনার আরও জানিয়েছে, আজ শনিবার পর্যন্ত ভোটার তালিকা স্কুটিনির কাজ শেষ হয়েছে ৮.৫ লাখের একটু বেশি। আগামীকালের মধ্যে সেটা দশ লাখ হয়ে যাবে। অন্যদিকে আগামী ১০ তারিখ সুপ্রিম কোর্টের শুনানি তারিখ রয়েছে। সেদিন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আলোচনার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হবে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বা তালিকা একাধিক দফায় পশ্চিমবঙ্গে বার করা হবে কিনা। আর তা হলেও কয় ভাগে, কবে ও কীভাবে প্রকাশিত হবে সেটাও জানিয়ে দেবে কমিশন।
তবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তর জানিয়েছেন, যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে কিংবা গেছে তারা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন নাম তোলার জন্য ফর্ম-৬ পূরণ করে। তবে সেই ক্ষেত্রে শুনানি কোথায় হবে এবং সেই আবেদন কোথায় জমা হবে তা সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।
তবে এখনো পর্যন্ত রাজ্যে মোট বুথ সংখ্যা নির্ধারিত হয়েছে - ৮০ হাজার ৬৮১। এর সঙ্গে বহুতলের ৫৭ টি বুথ যোগ হবে বলেই জানিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তর। পাশাপাশি ভিন রাজ্য অর্থাৎ ঝাড়খন্ড ও উড়িষ্যা থেকে জুডিশিয়াল অফিসারদের স্ক্রুটিনির কাজে নিয়োগের কারণে ধাপে ধাপে আসা শুরু হয়েছে মোট ২০০ জনের মত জুডিশিয়াল আধিকারিক।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, পাইকপাড়ায় আজ বোমা বিস্ফোরণ কাণ্ডে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে সেখানকার নির্বাচনী আধিকারিক ও পুলিশের কাছ থেকে। পাশাপাশি আগামীকাল ৮ই মার্চ জাতীয় নির্বাচন কমিশন জ্ঞানেশ কুমার এর ফুল বেঞ্চ কলকাতায় উপস্থিত হচ্ছেন। নির্বাচনের বিষয় সহ রাজ্যের নির্বাচনের সুরক্ষা ব্যবস্থা, আইন শৃঙ্খলা সহ একাধিক বিষয় নিয়ে বৈঠক চলবে দফায় দফায়। একই সাথে আলোচনা হবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি সঙ্গে। এবং দশ তারিখ ফিরে যাওয়ার পর ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।
