মিল্টন সেন, হুগলি,২৮ জানুয়ারি: আজ সিঙ্গুরের ইন্দ্রখালি এলাকায় জনসভা করবেন রাজ্যের মুখ্য মন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। পাশাপাশি যোগ দেবেন প্রশাসনিক বৈঠকে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে সভা মঞ্চ থেকে একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন। পাশাপাশি বাংলা আবাস যোজনা নিয়েও বড় ঘোষণা করতে চলেছেন। একইসঙ্গে সভা মঞ্চ থেকে একাধিক উপভোক্তার হাতে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের অনুমোদন তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। 

পনেরো বছরের মাথায় বিধানসভা ভোটের আগে আবারও হটস্পট সেই "সিঙ্গুর"। গত ১৮ই জানুয়ারি সিঙ্গুরে টাটার মাঠে জনসভা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দীর্ঘ বক্তব্যে সিঙ্গুর প্রসঙ্গে নীরব থেকেছেন। আর তাতেই আশাহত হয়েছেন সিঙ্গুরবাসী। প্রতিবাদে সরব হয়েছে তৃনমূল কংগ্রেস।

সেই জনসভার দশ দিন পর সিঙ্গুরের বারুইপাড়া পলতাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ইন্দ্রখালি এলাকায় জনসভা করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে হচ্ছে এই সভা। প্রশাসনিক কর্মসূচির পাশাপাশি রাজনৈতিক জনসভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই উপলক্ষে ইতিমধ্যেই মঞ্চ তৈরীর কাজ প্রায় শেষ। গোটা এলাকা মুড়ে ফেলা হয়েছে তৃণমূলের দলীয় পতাকায়। মঙ্গলবার সভাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। ছিলেন আরামবাগের সাংসদ মিতালী বাগ, সিঙ্গুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না, প্রাক্তন মন্ত্রী বিধায়ক তপন দাশগুপ্ত, বিধায়ক করবি মান্না, হুগলী জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখার্জি প্রমুখ।

এদিন মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেছেন, "সিঙ্গুরের পবিত্র মাটিতে দাড়িয়ে নরেন্দ্র মোদি কুৎসা, অপপ্রচার ভাঁওতা দিয়ে গিয়েছেন। বাংলাকে অপমান করেছেন। তাছাড়া বাংলা টানা কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রের বঞ্চনার শিকার। সিঙ্গুরের মঞ্চকে প্রধানমন্ত্রী একটা নাটকে পর্যভূষিত করেছেন। বাংলাকে নিয়ে যেভাবে কুৎসা, অপপ্রচার করা হয়েছে, সভা থেকে তারই করা জবাব দেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। নরেন্দ্র মোদি সিঙ্গুর এবং হুগলিকে কিছু দিতে পারেননি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়নের ডালি নিয়ে আসছেন। নিরাস হবেন না কেউই। সারা বাংলার মানুষ তা দেখতে পাবেন।" 

মন্ত্রী আরও বলেছেন। তিনি বলেন, "প্রধান মন্ত্রী জানেন না, লোকের মুখে শুনে বলে দিয়েছেন। কত জমি নেয়া হয়েছিল জানেন না। মোট জমি ৯৯৭ একর। সেই জমির মধ্যে ৮০০ একর জমিতে চাষ চলছে। বাকি ১০০ একর জমিকে চাষযোগ্য করে তোলার কাজ চলছে। বাকি জমি রাস্তায় লাগোয়া। সেগুলি হোটেল মালিক কারখানা মালিক এবং পেট্রোল পাম্পের মালিকদের কেনা রয়েছে। তারা চাষি নয়। নরেন্দ্র মোদির সভায় ৪০ হাজার লোক হয়েছিল। এই সভায় দু লক্ষ জমায়েত টার্গেট রয়েছে। তাই দু লক্ষ লোক যেখানে ধরবে সেখানেই আমাদের সভা করতে হবে।" 

ছবি পার্থ রাহা