মিল্টন সেন, হুগলিঃ  চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে পর্যদুস্ত তৃণমূল কংগ্রেস। একের পর এক কাউন্সিলের পদত্যাগের পর সম্প্রতি ভেঙে গিয়েছে পুরনিগম। এ বার চন্দননগর পুরনিগম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় হুগলি জেলা শাসককে। 

মঙ্গলবার পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তর থেকে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব নির্দেশ জারি করে।
নির্দেশ অনুযায়ী, হুগলি জেলা শাসকখুরশিদ আলি কাদরিকে চন্দননগর পুরনিগমের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার থেকেই তিনি এই পদে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কাউন্সিলরদের পদত্যাগের জেরে ভেঙে পড়ে গোটা পুরবোর্ড। আগেই পদত্যাগ করেছিলেন ডেপুটি মেয়র। এবার পদত্যাগ করলেন খোদ মেয়র। সঙ্গে পদত্যাগ করলেন চন্দননগর পুর নিগমের আর অন্যান্য তৃণমূল কাউন্সিলররা। সব মিলিয়ে পদত্যাগ করা তৃণমূল কাউন্সিলরের সংখ্যা ৩০ জন। গত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের অধিকাংশ আসনে পরাজিত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। চন্দননগরে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। সেই পরাজয়ের পর থেকেই কর্পোরেশনের অবস্থা টালমাটাল হয়ে যায়।

চন্দননগর পুর নিগমের ৩৩ টি ওয়ার্ড। ছিলেন ৩১ জন তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর। আর দু'জন কাউন্সিলর ছিলেন সিপিএম-এর। শুক্রবার সকাল এবং রাত মিলিয়ে এক এক করে সবাই তাঁদের পদত্যাগ পত্র জমা দেন কর্পোরেশনের চেয়ারপারসন স্নিগ্ধা রায়ের কাছে। মেল মারফত পদত্যাগ পত্র কমিশনারকেও পাঠিয়ে দেন কাউন্সিলররা। এর পর চেয়ারপার্সনের পদত্যাগ পত্র কর্পোরেশনের কমিশনারের কাছে পৌঁছে যায়। 

 

পদত্যাগ করার পর চন্দননগরের বিদায়ী মেয়র রাম চক্রবর্তী বলেন, "বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় হয়েছে। মানুষের রায় তিনি মাথা পেতে নিয়েছেন। তবে তিনি ভেবেছিলেন পুর নিগমের পরিষেবা চালিয়ে যেতে পারবেন। সম্প্রতি রাজ্য পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুরসভার খরচের অডিট হবে। পুরনিগমের আর অর্থনৈতিক কোনও স্বাধীনতা থাকল না। সামান্য চায়ের খরচ, গাড়ির তেলের খরচ সেগুলো তাঁরা আর পাচ্ছেন না। তিনি মনে করেন এর ফলে নাগরিকদের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরী হবে। তাই কয়েকদিন অপেক্ষার পর তিনি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদি কোনও কাজই না করতে পারেন, তাহলে তাঁর কাছে শুধু চেয়ার আগলে বসে থাকার কোনও মানে হয় না। নাগরিকদের কাছে তাঁকে জবাব দিতে হবে। তাই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁকে পদত্যাগ করার জন্য কেউ জোর করেনি।"

 

তবে চন্দননগর কর্পোরেশনে মেয়াদ শেষের আগে প্রশাসক নিয়োগ যদিও নতুন নয়।
এর আগে ২০১৮ সাল থেকে সাড়ে তিন বছর প্রশাসক বসানো হয়েছিল তৃনমূল কাউন্সিলরদের অকর্মণ্যতার কারণে।