আজকাল ওয়েবডেস্ক: সিকিম থেকে শিলিগুড়ি আসার পথে তিস্তা নদীতে গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল একই পরিবারের চারজনের। শুক্রবার নিখোঁজ হওয়ার পর শুরু হয় উদ্ধারকার্য, উদ্ধার হইয়েছে গাড়ি। সেবক কালীবাড়ি সংলগ্ন তিস্তা নদী থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁদের গাড়ি। গাড়ির ভিতর থেকেই উদ্ধার হয় শিশু-সহ চারজনের দেহ।
জানা গিয়েছে, সিকিমের ওই পরিবারটি শুক্রবার ব্যক্তিগত গাড়ি করে শিলিগুড়িতে চিকিৎসাধীন এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসছিলেন। ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে আসার সময় রোম্বি ও বাঘপুলের মাঝামাঝি ভেলাবাড়ি এলাকায় বিকেলের দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের শেষবার যোগাযোগ হয়। এরপর থেকেই তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং পরিবারের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, ওই সময় এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ধসের কারণে রাস্তার পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। পাহাড় থেকে নেমে আসা ধস ও ঝরনার জলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিস্তার খাদে পড়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর শুক্রবার রাত থেকেই খোঁজ শুরু হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার সকালে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, সিকিম প্রশাসন এবং এনডিআরএফ-এর যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। ডেপুটি কমান্ড্যান্ট সঞ্জয় রঞ্জনের নেতৃত্বে উদ্ধারকারীরা নদীর ধারে প্রথমে গাড়ির ব্যাটারি এবং কিছু ভাঙা যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেন। এরপর তল্লাশি জোরদার করা হলে নদীগর্ভ থেকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। গাড়ির ভেতর থেকেই চারজনের দেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন- সব্য নিউপানে (২৭), স্মরিকা নিউপানে (২৯), টিকা মায়া দাহাল (৩১) এবং পাঁচ বছরের শিশু দিত্য ছেত্রী।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে মৃতদের পরিবার ও স্থানীয় এলাকায়। প্রবল বৃষ্টি ও ধসের জেরে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে ফের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট অজয় কুমার জানান, “শুক্রবার থেকেই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছিল। রাতের অন্ধকারে অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। শনিবার সকালে ফের ডুবুরিদের নিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। সেবক কালীবাড়ির সামনে তিস্তা নদী থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয় এবং তার ভিতর থেকেই চারজনের দেহ পাওয়া যায়।”















