আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের হারের পর থেকেই, চূড়ান্ত অস্থিরতা লক্ষ্য করা গিয়েছে দলের মধ্যে। একাধিক নেতা-নেত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বহু নেতা-নেত্রী গ্রেপ্তার ইতিমধ্যেই। রাজ্যের নানা প্রান্তে অভিযোগ দুর্নীতির, লুঠের, অত্যাচারের। তার মাঝেই দলে ভাঙন। কেবল ক্ষোভের  প্রকাশ নয়, একেবারে ৮০ বিধায়কের মধ্যে, ৬০ জন নেত্রীর মতামতের বিপরীতে হাঁটতে শুরু করেছেন। 

ক্ষমতায় তিন বার থাকা দলে, হারের একমাসের মাথায় বে-আব্রু। তৃণমূলকে টুকরো টুকরো হয়ে যেতে দেখে কী বলছেন বিজেপি সরকারের মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত? সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে রাসবিহারীর বিধায়ক যেমন তৃণমূলের অবস্থা নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন, তেমনই বার্তা দিয়েছেন গেরুয়ায় শিবিরকে।

স্বপন লিখেছেন, 'তৃণমূলের আত্ম-ধ্বংসের জন্য আমার চোখে জল নেই।' তারপরেই গেরুয়া শিবিরের উদ্দেশে লিখেছেন, 'আমার একমাত্র আশা, এই দুর্বৃত্তদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিকে কলুষিত করতে শুরু না করে। বিজেপিতে আমাদের সেইসব ভণ্ড বন্ধুদের ব্যাপারে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে, যাঁরা আজ পুরনো পাপ মোচনের জন্য আমাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ছে।' একেবারে শেষে লিখেছেন, 'বাংলার শুদ্ধিকরণ অসম্পূর্ণ রাখা যায় না।'

 

তৃণ্মূলের ফাটল গত কয়েকদিনে স্পষ্ট হলেও, কাল প্রায় দু'টুকরো হয়ে সামনে আসে যেন। জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন, বিরোধী দলনেতার পরে বসেছেন বিক্ষুব্ধ, বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এক ঋতব্রতর সঙ্গে রইলেন চার উপদল নেতা।  উপ-দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন শিউলি সাহা, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহা। এদিন বিধানসভার স্পিকার তাঁর হাতে বিরোধী দলনেতার ঘরের চাবিও তুলে দেন। সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বললেন, তাঁর ৫৮ বিধায়কের টিম, প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে চাইছেন মমতা ব্যানার্জিকেই। তাঁরা দফায় দফায় বসবেন বৈঠকে। ঠিক করবেন পরবর্তী রূপরেখা। সঙ্গেই স্পষ্ট বললেন, তাঁর টিম ৫৮ থেকে বেড়ে হবে ৬০। ৬০ জনের মধ্যে হতে পারে মতান্তর, কিন্তু মনন্তর হবে না কখনও। এই ভাঙনকেই সংক্রামক বলে, এবার সতর্কবার্তা মন্ত্রী স্বপনের।