আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশি সন্দেহ। অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে কাঁটাতারের বেড়া টপকে অন্যদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল অন্তঃসত্ত্বা সোনালিকে। ওই অবস্থায় ভিন দেশের কারাগারে জেলবন্দি ছিলেন। ফিরে এসেছেন মাস খানেক আগে। এবার পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন সোনালি খাতুন। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে নিজেই এই বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সঙ্গেই জানিয়েছেন, আগামিকাল, মঙ্গলবার, নিজের বীরভূম সফরের মাঝেই সোনালির সঙ্গে দেখা করবেন অভিষেক।

এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিষেক পোস্ট করে লেখেন-'বীরভূমের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে সোনালি খাতুন একটি সুস্থ পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন জেনে আমি গআনন্দিত। তাঁর উপর যে অবিচার করা হয়েছিল সেই প্রেক্ষিতে এই আনন্দ আরও বেশি।' নিজের পোস্টেই অভিষেক মনে করিয়ে দিয়েছেন, কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে, দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্র সরকার সোনালিকে বাংলাদেশি চিহ্নিত করে জোর করে সে দেশে পাঠিয়েছিল।

সোনালির পরিস্থিতি উল্লেখ করে অভিষেক লিখেছেন, 'এটি মানবতার জয়। আগামিকাল, বীরভূম সফরের সময়, আমি ব্যক্তিগতভাবে হাসপাতালে সোনালি এবং তার নবজাতকের প্রতি আমার শুভকামনা জানাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করব। আমার প্রার্থনা তাঁর পরিবারের সঙ্গে থাকবে।' 

 

এর আগে, ডিসেম্বরে কালীঘাটে আসার কথা ছিল সোনালি খাতুনের। কথা ছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির সঙ্গে সাক্ষাতের। তবে বদল হয় সিদ্ধান্তের। সাক্ষাতের আগেই জানা যায়, সোনালির শারীরিক পরিস্থিতি বিচারেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানিয়েছিলেন, অন্তঃসত্ত্বা সোনালির এই সময়ে এতটা পথ যাতায়াত উচিৎ নয়। তাই তাঁকে এতটা রাস্তা যাতায়াত না করার জন্য অনুরোধ করেছেন। সকল চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন এবং সোনালির সন্তান জন্মের পর দেখা করবেন বলেও জানিয়েছিলেন। সোনালির সন্তান জন্মের পরেই, দেখা করার দিন জানিয়ে দিলেন অভিষেক। 

সোনালি প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, সোনালি খাতুনকে অন্য দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে। কাজের সন্ধানে দিল্লিতে গিয়েছিলেন বীরভূমের পাইকরের বাসিন্দা সোনালি বিবি ও সুইটি বিবির পরিবার ৷ অভিযোগ, তাঁদের কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও গত ১৭ জুন তাঁদের গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ ৷ শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য তাঁদের বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করা হয়৷ সেই সন্দেহের বশে ২৬ জুন অসমের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ‘পুশব্যাক’ করে ছ'জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয় ৷ সেই সময় সোনালি বিবি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর পর তাঁরা দীর্ঘদিন বাংলাদেশে জেলে ছিলেন। কারণ, বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জের পুলিশ তাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আটক করে ও মামলা রুজু করে। এই অবস্থায় একশো দিনেরও বেশি সময় তাঁরা স্থানীয় সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন ৷