আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতা থেকে সরিয়ে ফেলা হবে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই)-এর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রের খবর, শীঘ্রই ব্যাঙ্কের সেন্ট্রালাইজড প্রসেসিং সেন্টার মুম্বইয়ে স্থানান্তরণের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। ব্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করল নাগরিক সংগঠন 'ব্যাঙ্ক বাঁচাও দেশ বাঁচাও মঞ্চ'। তাদের আশঙ্কা, এই দফতরগুলি রাজ্য থেকে চলে গেলে কর্মসংস্থানে সমস্যা হবে। এ ছাড়া, 'ব্যাঙ্কিং হাব' হিসাবে পরিচিত কলকাতার গরিমাও ক্ষুণ্ণ হবে।
‘ব্যাঙ্ক বাঁচাও দেশ বাঁচাও মঞ্চ’-এর তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা একটি চিঠিতে জানানো হয়েছে, এসবিআই তাদের 'লোন সেন্ট্রাল প্রসেসিং সেন্টার’'(এলসিপিসি), 'সেন্ট্রালাইজড চেক প্রসেসিং সেন্টার' (সিসিপিসি) এবং'‘সেন্ট্রালাইজড পেনশন প্রসেসিং সেন্টার' (সিপিপিসি) কলকাতা থেকে সরিয়ে সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর সে জন্যই এই কেন্দ্রগুলি সরিয়ে ফেলা হবে মুম্বইয়ে। এর ফলে কলকাতার বর্তমান কার্যালয়গুলি দ্রুত খালি করে দেওয়া হবে।
বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন রাজ্য সরকারের কাছে এই প্রথম কোনও বিষয়ে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে চিঠি পাঠাল এই মঞ্চ। এর আগে বামফ্রন্ট ও মমতা সরকারের আমলেও কলকাতার ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামো রক্ষার স্বার্থে রাস্তায় নামের মঞ্চের আন্দোলনকারীরা। এসবিআই-এর 'গ্লোবাল মার্কেট ইউনিট' কলকাতা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দ্বারস্থ হয় মঞ্চ। যদিও শেষমেশ কোনও সুরাহা মেলেনি।
সংগঠনের যৌথ আহ্বায়ক বিশ্বরঞ্জন রায় ও সৌম্য দত্ত চিঠিতে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র এলসিপিসি এবং সিপিপিসি-র সঙ্গেই প্রায় ১৬০ জন স্থায়ী কর্মী যুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ৫০ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী, ৫০ জনেরও বেশি ভেন্ডর ও পরিষেবা প্রদানকারী এবং আরও ৩০ জনের বেশি কর্মী প্রত্যক্ষভাবে এই দপ্তরগুলির সঙ্গে জড়িত। এই দপ্তরগুলি অন্যত্র চলে গেলে এঁদের সকলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতার মুখে পড়বে।
মঞ্চের দাবি, বাংলা থেকে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা গুটিয়ে নেওয়ার এই প্রবণতা নতুন নয়। এর আগে ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (ইউবিআই) এবং এলাহাবাদ ব্যাঙ্কের মতো ঐতিহ্যবাহী ব্যাঙ্কের সংযুক্তিকরণ, এসবিআই-এর রেজিস্টার্ড অফিস মুম্বইয়ে স্থানান্তর এবং একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ক্রমাগত রাজ্যের ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামোকে দুর্বল করা হয়েছে।
চিঠিতে অতীতের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, এর আগেও একই ঘটনা ঘটেছে। এসবিআই-এর 'সেন্ট্রাল অ্যাকাউন্টস অফিস' কলকাতা থেকে সরে যাওয়ার কারণে প্রায় ৪০০ জন চাকরি হারিয়েছেন। 'গ্লোবাল মার্কেট ইউনিট' স্থানান্তরের ফলে প্রায় ১৫০টি পদ বিলুপ্ত হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্য বিপুল পরিমাণ জিএসটি রাজস্ব করও হারিয়েছে।
সূত্রের খবর, স্টেট ব্যাঙ্কের এই স্থানান্তরণ প্রক্রিয়া যদি প্রায় চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে গিয়ে থাকে, তবে রাজ্য সরকারের পক্ষে এই প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া কার্যত মুশকিল। তা সত্ত্বেও, ‘ব্যাঙ্ক বাঁচাও দেশ বাঁচাও মঞ্চ’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অনুরোধ জানিয়েছে, তিনি যেন অবিলম্বে এই বিষয়ে স্টেট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ, কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অধীনস্থ 'ডিপার্টমেন্ট অফ ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস' এবং ভারত সরকারের শীর্ষ মহলের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। কলকাতা থেকেই যাতে এই প্রসেসিং সেন্টারগুলির কাজ চালানো হয় এবং রাজ্যের ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামোর আর কোনও ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।















