ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা, মহিলার মৃত্যুতে এসআইআর আতঙ্কের অভিযোগ পরিবারের

ফের SIR আতঙ্কে মৃত্যু! পরিবারের বিরাট অভিযোগ। প্রতীকী ছবি।

আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফের এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুর অভিযোগ। এবার ঘটনাস্থল  পূর্ব বর্ধমানের বৈকুন্ঠপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের রায়নগর।  মৃতার নাম ফুলমালা পাল(৫৭)।
জানা গিয়েছে, এসআইআর-এর  তালিকায় স্বামী, ছেলের নাম থাকলেও ফুলমালার নাম আসেনি।  ২০০২ সালের এসআইআর-এর তালিকায় নাম ছিল না তাঁর। তাই আনম্যাপিং হিসাবে শুনানির জন্য তাঁর কাছে নোটিস এসেছিল নির্বাচন কমিশনের। পরিবারের অভিযোগ নোটিস পাওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে ছিলেন ফুলমালা। পরিবারকে আতঙ্কের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। 

স্বামী সুনীল পাল জানান, 'আমরা আস্বস্ত করেছিলাম  আমাদের তো নাম আছে। তোমার চিন্তা করার কিছু নেই। কিন্তু তার পরেও বিষয়টা নিয়ে চিন্তার মধ্যে ছিল। শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে খানিকটা দূরেই রেললাইনে গিয়ে ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে।' বর্ধমান স্টেশনের জিআরপি  মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়।


মৃত্যুর খবর চাউর হতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এসআইআর-এর শুরু থেকেই এই ধরনের ঘটনা রাজ্যে ঘটছে। নাম না আসার জন্যই ভয়ে, আতঙ্কেই ফুলমালা পালের মৃত্যু হয়েছে।

 

এসআইআর চলছে রাজ্যে। এনুমারেশন ফর্ম পর্ব পেরিয়ে চলছে শুনানি পর্ব। এর মাঝেই, একাধিক মৃত্যুর ঘটনা। অভিযোগ এসআইআর আতঙ্কের দিকে। বছরের শেষ দিনেও এই আতঙ্কেই মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণদিনাজপুরের মলিগাঁও গ্রামপঞ্চায়েতে। মৃতার নাম জয়ন্তী সরকার। বয়স ৫০।

 

অভিযোগ, এসআইআর আতঙ্কে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। পরিবারের অভিযোগ, তাঁর ভোটার কার্ডে অসঙ্গতি ছিল। এমনকী, তাঁকে এনুমারেশন ফর্মও দেওয়া হয়নি। তাঁর ভোটারকার্ডে নাম তাঁর হলেও, ছবি অন্য মহিলার, ভুল স্বামীর নামেও, পরিবারের অভিযোগ তেমনটাই। 

এসআইআর ঘিরে একের পর এক মৃত্যু রাজ্য জুড়ে। গত এক মাসে মৃত্যুমিছিলের সাক্ষী রয়েছে বাংলা। শুনানি পর্ব শুরু হতেই ক্রমেই সেই মৃত্যুমিছিল বাড়ছে। এর আগে সামনে আসে পূর্ব মেদিনীপুরের ঘটনা। পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর বিধানসভা এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। ৭৫ বছরের মৃত বৃদ্ধের নাম, বিমল। রামনগর থানার অন্তর্গত সাদি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে শুরু থেকেই আতঙ্কে ভুগছিলেন ওই বৃদ্ধ। অভিযোগ, মঙ্গলবার চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তিনি। পরিবারের তরফে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, দিন কয়েক আগেই বৃদ্ধ জানতে পারেন, এসআইআর-এর শুনানিতে তাঁকে ডাকা হয়েছে। শুনানিতে ডাক পরতেই ভয়, আতঙ্ক আরও বেড়ে যায় তাঁর। শুনানিতে ডাকার জেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বৃদ্ধ। 

তার আগেও, শুনানির জেরে আরও এক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল। ঘটনাস্থল পুরুলিয়ায়। শুনানিতে সময়মতো পৌঁছতে না পারায়, চরম আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন এক বৃদ্ধ। এসআইআর-শুনানি ঘিরে আগে থেকেই দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। শুনানির দিনেই চরম পদক্ষেপ করেন তিনি। 

মৃত বৃদ্ধের নাম, দুর্জন মাঝি (৮২)। তিনি পুরুলিয়ার আনারার পাড়া ব্লকের চৌতালা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আজ শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল তাঁকে। সোমবার সকাল থেকেই দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। শুনানিতে বেরিয়েও, মাঝপথেই আত্মঘাতী হন তিনি। 

মৃত বৃদ্ধের স্ত্রী ও ছেলে জানিয়েছেন, শুনানির জন্য সময়মতো বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু বাইরে বেরিয়েও কোনও টোটো পাননি শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছনোর জন্য। যার জেরে আরও দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে তাঁর। সময়মতো শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছতে না পারলে, ঝামেলা হতে পারে, এই আতঙ্কে চরম পদক্ষেপ করেন। এরপর গ্রামের অদূরে রেললাইনে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মঘাতী হন তিনি, অভিযোগ তেমনটাই। চৌতালা গ্রামের পাশে রেললাইন থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।