আজকাল ওয়েবডেস্ক: সংখ্যালঘু ভোটার অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় ১১ লক্ষ ভোটার ভোট দিতে পারবেন কি না তা এখনও অনিশ্চিত হয়ে রইল। শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে যে ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় ১১ লক্ষ ২১ হাজার ভোটারের তথ্য এখনও বিচারাধীন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৪ লক্ষ ৭৫ হাজার ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় উঠে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে ২২ আসন বিশিষ্ট মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস কুড়িটি আসনে জয়ী হয়। দু'টি আসন থেকে জয়লাভ করে বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেসের এই জয়ে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক বড় ভূমিকা নিয়েছিল বলে তথ্যভিজ্ঞ মহলের ধারণা। এবারের ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে, যাদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ।
নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে গত ১৬ ডিসেম্বর যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল তাতে মুর্শিদাবাদ জেলায় মোট ৫৪ লক্ষ ৮৫ হাজার ২৪৮ জনের নাম ছিল। শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি যে ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে তাতে ৫৪ লক্ষ ৭৫ হাজার ৪৭০ জনের নাম রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে এখনও ১১ লক্ষ ২১ হাজার ২০৫ জন ভোটারের নথি যাচাই করার প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মুর্শিদাবাদ জেলার ২২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে শনিবারের প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ছ'টি বিধানসভা কেন্দ্রে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ভোটার সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাকি ১৬ টি বিধানসভা কেন্দ্রেই খসড়া ভোটার তালিকা থেকে শনিবারে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী খসড়া ভোটার তালিকা থেকে শনিবারের প্রকাশিত ভোটার তালিকায় সবথেকে বেশি ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে মুর্শিদাবাদের ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্রে। সেখানে মোট ১,৯২১ জন ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছে। সব থেকে কম ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছে রানিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে। সেখানে মাত্র ১৭১ জন ভোটার এখনও পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের বাকি ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে খসড়া তালিকার থেকে শনিবারে প্রকাশিত তালিকায় ভোটার সংখ্যা কিছুটা কমেছে। সবথেকে বেশি ভোটার কমেছে মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রে। সেখানে ৪০৭৫ জন ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। শনিবারের প্রকাশিত তালিকায় সামশেরগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে খসড়া তালিকা থেকে মাত্র ৯৬ জন ভোটারের নাম কম রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মুর্শিদাবাদ জেলায় যে ১১ লক্ষ ২১ হাজার ২০৫ জন ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে সেই তালিকার শীর্ষ রয়েছে সামশেরগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানে ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৯০১ জন ভোটারের তথ্য এখনও যাচাই করা হয়নি বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ১২,৭৫৪ জন ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের কাজ এখনও বাকি রয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে। এই সংখ্যা মুর্শিদাবাদ জেলার বাকি সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রগুলির তুলনায় সব থেকে কম।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী লক্ষাধিক ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ, সুতি, রানিনগর এবং রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভা এলাকায়। ৭৫ হাজারের বেশি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে ফরাক্কা, জঙ্গিপুর, লালগোলা, ভগবানগোলা বিধানসভা কেন্দ্রে।
অন্যদিকে মালদহ জেলায় নতুন প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা দাঁড়াল ২৯ লক্ষ ৮৬ হাজার ২০৩ জন। জেলায় 'অ্যাডজুডিকেশন' ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জনের। সদ্য প্রকাশিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ২ লক্ষ ২০ হাজার ১৫৩ জন ভোটারের নাম। যার মধ্যে খসড়া তালিকায় বাদ গিয়েছিল ২ লক্ষ ১ হাজার ৮৭৩ জন ভোটারের নাম। নতুন করে বাদ গেল আরও ১৮ হাজার ২৮০ জনের নাম।
মালদহ জেলায় এসআইআর শুনানির নোটিস পেয়েছিলেন ১০ লক্ষ ৩ হাজার জন ভোটার। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ভোটার শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্য জুড়ে এক কোটির বেশি ভোটারের ভাগ্য এখনও অনিশ্চিত থাকার বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম শনিবার মুর্শিদাবাদ জেলায় একটি সরকারি অনুষ্ঠানে এসে বলেন, "ওরা যতই ফন্দি করুক বাঙালি ভোটারের নাম কাটুক, বাংলাকে কাটতে পারবে না। আমাদের আদালতের প্রতি বিশ্বাস রয়েছে। বিচারাধীন ভোটারদের নাম কাটতে পারবে না বলেই আমার বিশ্বাস রয়েছে। সংবিধান আমাদের একসঙ্গে থাকার অধিকার দিয়েছে। আমরা ভারতীয় ভোটার। আমরা কেউ রোহিঙ্গা বা 'ঘুষপেটিয়া'(অনুপ্রবেশকারী) নই।"
ফিরহাদ হাকিম আরও বলেন, "ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে হিন্দু মুসলমান একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ দিয়ে লড়াই করে নিজেদের রক্ত দিয়ে এই দেশের স্বাধীনতা এনেছে। অথচ এখন একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম মুছে দেওয়া ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তবে একজনও প্রকৃত ভারতীয় ভোটারের নাম আমরা বাদ দিতে দেব না।দরকার হলে আরও প্রতিবাদ হবে।"
