আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় শুনানি পর্বে বিশেষ পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের। বিদেশে থাকা ব্যক্তিদের অর্থাৎ পড়াশোনা বা কর্মসূত্রে যারা বিদেশে রয়েছেন, তাঁদের জন্য নির্বাচন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন। যাতে তাঁদের কোনওরকম সমস্যা না হয়, সেই কথা ভেবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের বিভ্রান্ত হওয়ার কারণ নেই। শুনানি পর্বের ক্ষেত্রে তাঁদের কোনও নোটিশ জারি হলে তাঁরা সেই দেশে অবস্থিত ভারত সরকারের রাষ্ট্রদূত বিভাগে অর্থাৎ এম্বাসিতে গিয়ে তাঁদের নিজেদের পাসপোর্ট ভিসা সংক্রান্ত তথ্য জমা করলেই সমস্যার সমাধান হবে। এই বিষয়ে আলাদা করে চিন্তা করা বা বিভ্রান্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
নির্বাচন কমিশন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বারুইপুরে নামের তালিকায় অসঙ্গতি, যেমন জীবিত কে মৃত দেখানো নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, সেইসব কারণে এবার নির্বাচন কমিশন পুনরায় দায়িত্ব দিয়েছেন এফআইআর করার জন্য। এফআইআর করতে পারবে সেই জেলার ডিইও (যিনি জেলাশাসক পদমর্যাদার আধিকারিক)। পূর্বে এই নিয়ে অর্ডার দেওয়া হয়েছিল সিএস আধিকারিক কে। পরে সেই নির্দেশ পুনরায় ডিইও কে দেওয়া হয়েছে সাত জন আধিকারিকের বিরুদ্ধে। যাদের মধ্যে ERO -২ জন, AERO - ২ জন, আর ডেটা এন্ট্রি অপারেটর তিন জন, এই মোট সাত জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তর।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, পূর্বেই বাদ গিয়েছিল খসড়া তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ ভোটার, এছাড়াও আনম্যাপ ৩২ লক্ষ্য ভোটার যাদের শুনানির জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আরও প্রায় ২৪ লক্ষ ভোটার তালিকার নাম নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে বলেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তর জানিয়েছে, এই সংখ্যার ভোটাররা, যারা একজন ব্যক্তিকেই ছয় জন মিলে অভিভাবক বা 'বাবা' বলে নথিভুক্ত করেছেন, পাশাপাশি যাদের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে নামেরও অসঙ্গতি। আর সেই কারণেই তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই প্রকৃত সংখ্যাটি হল ২৩ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩০ জন ব্যক্তি। তালিকায় নাম থাকলেও বিরাট অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে তাদের বাবার পরিচয় নিয়ে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছেন, এতজন ব্যক্তির বাবা কীকরে একজন হতে পারে, বিতর্ক তা নিয়েও৷ সেই বিতর্ক বা অসঙ্গতির কারণেই প্রায় ২৪ লক্ষ ভোটারদের লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি অর্থাৎ যৌক্তিগত অসঙ্গতি তালিকায় নথিভুক্ত করে রাখা হয়েছে। খুব শীঘ্রই তাদেরকে নোটিশ পাঠিয়ে উপযুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে কারণ দর্শাতে হবে। নথি জমা করতে হবে শুনানি পর্বে। সঠিক কারণ বা তথ্য না দর্শাতে পারলে নাম বাদ যেতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর।
বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, বিশেষভাবে সক্ষম ও অসুস্থদের শুনানি পর্বে ডাক পাঠানো নিয়ে এবং তাদেরকে সশরীরে হাজিরা দেওয়া নিয়ে জানতে চাওয়া হলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট বলেছেন, "এ বিষয়ে পূর্বেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল জেলাশাসকদের মাধ্যমে প্রতিটি বিএলও আধিকারিকদের। যদি কোনও বিএলও অর্থাৎ বুথ লেভেল অফিসার সহযোগিতা না করেন তাদেরকে, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" যদিও এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন, অসুস্থতা কিংবা শারীরিক অক্ষমতার একটা নির্দিষ্ট মাপকাঠি রয়েছে। যে কেউ চাইলেই অসুস্থতার কারণ দেখালে তার বাড়িতে গিয়ে শুনানি পর্ব সম্পন্ন করা হবে না। বিশেষ বা সিরিয়াস কোনও অসুস্থতা থাকলে তার প্রকৃত কারণ দর্শিয়ে নিজে নিজে এলাকার বিএলওকে আবেদন জানাতে হবে। সেক্ষেত্রে সেই সকল ব্যক্তিদের শুনানি হবে তার বাড়িতে অথবা বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে সেই সকল ব্যক্তিদের জন্য। তবে এই সমস্ত বিএলও আধিকারিকরা রাজনীতি করছে কিনা কিংবা রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নিয়ে অসংলগ্ন কাজ করছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।
আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর সভায় একাধিক বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত ভোটারদের মঞ্চে তুলে নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করা নিয়ে, নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই নিয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে প্রতিটি জেলার আধিকারিকদের, জেলাশাসক পদমর্যাদার আধিকারিকদের কাছে। যদিও এই ঘটনা রাজ্যে খুবই অল্প সংখ্যক হয়েছে। তবে এ ধরনের কাজ যদি প্রমাণিত হয় বিএলও দের বিরুদ্ধে তারা ইচ্ছাকৃত করেছেন কিংবা জেনে বুঝে করেছেন, তাহলে সেই সকল বিএলও দের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা হবে।
জেলাগুলি থেকে এখনও পর্যন্ত বিএলওদের মৃত্যুর রিপোর্ট বিস্তারিত কিছু এসে পৌঁছায়নি। রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে জেলাশাসকদের কাছে। সেই রিপোর্ট আসলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
