মিল্টন সেন, হুগলি: শুনানিতে হাজির হওয়া আর হল না। আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। এসআইআর-এর শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন রিষড়ার ৮৫ বছরের বৃদ্ধ ধনঞ্জয় চতুর্বেদী। আগামী ৪ জানুয়ারি অর্থাৎ রবিবার ছিল শুনানির দিন। পরিবারের অভিযোগ, রীতিমতো আতঙ্কে ছিলেন। নানা অসুস্থতা ছিল। তবে নোটিশ পাওয়ার পর সেই অসুস্থতা আচমকাই বেড়ে যায়। 

হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধ। শনিবার সকালে তাঁকে রিষড়া মাতৃসদনে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয়। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন ধনঞ্জয়। বাড়িতেই শয্যাশায়ী ছিলেন। তবে খবর রাখতেন এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ের। 

বৃদ্ধের ছেলে রাজেন্দ্র চতুর্বেদী দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশনের অমানবিক আচরণের জেরে তিনি তাঁর বাবাকে হারিয়েছেন। আতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে তাঁর বাবার। অসুস্থতা ছিল। তবে ভালই ছিলেন তাঁর বাবা। নোটিশ পাওয়ার পরে উৎকণ্ঠা বেড়েছিল। সবসময় চিন্তায় থাকতেন। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। 

রাজেন্দ্রর আরও অভিযোগ, তাঁর বাবা কলকাতার বড়বাজারে একটি স্কুলে চাকরি করতেন। তিনি রিষড়া এলাকায় প্রায় ৮০ বছরের বেশি সময় বসবাস করছেন। গত ২৯ ডিসেম্বর বিএলও তাঁদের বাড়িতে শুনানির নোটিশ দিয়ে যায়। তারপর থেকেই বাবা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন তাঁর বাবা। 

শুরুতে তাঁরা রিষড়ার রবীন্দ্র সরনী এলাকায় থাকতেন। বর্তমানে এনএস রোড এলাকার ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। তাঁকে ৪ তারিখে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। গোটা এই বিষয় নিয়ে খুবই চিন্তিত ছিলেন তাঁর বাবা। কারণ তিনি বলতেন, কোথায় যেতে হবে? কী করে তিনি সেখানে যাবেন? এত বছর ধরে রয়েছেন। একাধিকবার ভোট পর্বে অংশ নিয়েছেন। অথচ তাঁর নাম বাদ গেল কীভাবে, ইত্যাদি বিষয়ে আতঙ্কে ভুগছিলেন। 

রাজেন্দ্রর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন কেন এভাবে বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের হয়রান করছে, তিনি বুঝতে পারছেন না। তাঁদের কাছে যাবতীয় নথি রয়েছে। তা সত্ত্বেও কেন তাঁদের শুনানিতে ডাকা হবে, প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয় সাগর মিশ্র বলেছেন, 'ঘটনা দুঃখজনক তো বটেই, পাশাপাশি এটা খুবই লজ্জার বিষয়। কারণ, রিষড়ার দীর্ঘদিনের প্রবীণ বাসিন্দা ছিলেন ধনঞ্জয় বাবু। তাঁকে এই বয়সে এসেও ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে। নোটিশ দিয়ে ডেকে পাঠানো হচ্ছে একজন অসুস্থ মানুষকে। কতটা অমানবিক হলে তবে এমন কাজ করা যায়, এই বিষয়টা ভেবেও অবাক হচ্ছি।'