আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষ্যে পুণ্যার্থীদের নির্বিঘ্ন এবং আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে একাধিক ব্যবস্থা নিল পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন।
পুণ্যার্থীদের যাত্রাকে আরও নিরাপদ রাখতে এই বিশেষ ব্যবস্থাগুলি কার্যকর থাকবে আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে শিয়ালদহের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা জানান, কাকদ্বীপে ২৪ ঘণ্টা রেলের অফিসার মোতায়েন করা হবে।
জানানো হয়েছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে শিয়ালদহ ডিভিশনের তরফে সুসংগঠিত ট্রানজিট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ট্রেন পরিষেবা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যাত্রী সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা এবং জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ক্ষেত্রে একাধিক নজিরবিহীন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি।
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, পুণ্যার্থীদের বাড়তি ভিড় সামাল দিতে ট্রেন পরিষেবা বাড়ানো হয়েছে। প্রথমবারের মতো এবার মেলা চলাকালীন প্রতিদিন ২৩ জোড়া ইএমইউ ট্রেন চালানো হবে, যার মধ্যে শিয়ালদহ–নামখানা ও শিয়ালদহ–কাকদ্বীপ রুটে ১০ জোড়া বিশেষ গঙ্গাসাগর স্পেশাল ট্রেন থাকবে।
লক্ষ্মীকান্তপুর থেকে নামখানা পর্যন্ত সিঙ্গল লাইনের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও যতটা বেশি সংখ্যক ট্রেন পরিষেবার বাড়ানো যায় ততটাই চালি করে দেওয়া হয়েছে।
যাতে প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষার সময় কমে এবং অতিরিক্ত ভিড় না হয়। পাশাপাশি, গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ট্রেন পরিষেবার দিনসংখ্যা আগের বছরের ৬ দিনের পরিবর্তে বাড়িয়ে ৭ দিন করা হয়েছে।
ট্রেনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে যেখানে মোট ৭২টি ট্রেন চালানো হয়েছিল, ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৬টিতে।
মেলা চলাকালীন পুণ্যার্থীদের ভিড়ে যাতে নিত্যযাত্রীদের কোনওভাবে অসুবিধার মুখে না পড়তে হয় সে কারণে শিয়ালদহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ১৫ ও ১৬ এবং কাকদ্বীপ স্টেশনের দু’নম্বর প্ল্যাটফর্ম শুধুমাত্র গঙ্গাসাগর মেলার যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে।
প্রতিটি ট্রেনে প্রায় ২,০০০ থেকে ২,৫০০ পুণ্যার্থী স্বাচ্ছন্দ্যে ওঠানামা করতে পারবেন। ভিড়ের মধ্যে যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে জন্য এই প্ল্যাটফর্মগুলিতে বিশেষ ম্যানেজার নিয়োগ করা হবে, যাঁরা যাত্রী শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে গোটা প্রক্রিয়ার তদারকি করবেন।
ভিড় নিয়ন্ত্রণে কঠোরভাবে ‘ফার্স্ট কাম, ফার্স্ট সার্ভড’ নীতি কার্যকর করা হচ্ছে। যাত্রীদের ক্রস-মুভমেন্ট বন্ধ রাখতে চালু করা হয়েছে ওয়ান-ওয়ে ফ্লো সিস্টেম।
শিয়ালদহ স্টেশনে নামখানা ও কাকদ্বীপগামী পুণ্যার্থীদের শিয়ালদহ সাউথ মেট্রোর প্রবেশপথ দিয়ে স্টেশনে ঢুকতে হবে। অন্যান্য সময়ের শিয়ালদহ সাউথ গেট দিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।
ট্রেন থেকে নেমে বেরোনোর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র শিয়ালদহ সাউথের নিয়মিত গেট ব্যবহার করতে হবে। ওয়ান ওয়ে থাকার কারণে দু’দিকের যাত্রীদের কোনও সংঘর্ষ হবে না।
কাকদ্বীপ স্টেশনেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দু’নম্বর প্ল্যাটফর্মের একটি অংশকে হোল্ডিং এরিয়া হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
প্রায় ২,৫০০ জন পুণ্যার্থীকে একসঙ্গে সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। শিয়ালদহগামী সমস্ত ট্রেন কাকদ্বীপের দু’নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ছাড়বে এবং নামখানাগামী সমস্ত ট্রেন ছাড়বে এক নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে।
