আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার রাতে তোলাবাজি এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস।

নিউ আলিপুর থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, শুক্রবার তাঁকে আলিপুর আদালতে তোলা হবে। আর স্বরূপের গ্রেপ্তারির পরেই ফেসবুকে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন শতদ্রু দত্ত।

তবে তিনি যে ফেসবুক পোস্টে নাম না করে 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'-কেই আক্রমণ করেছেন তা একপ্রকার স্পষ্ট। পোস্টে শতদ্রু লিখেছেন, 'ছোট ভাই ইন, নেক্সট বড় ভাই। তারপর জুঁই ফুল, ভামোস।'

ইতিমধ্যেই, মেসি কাণ্ডে অরূপ বিশ্বাসের নামে এফআইআর দায়ের হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরেই যখন সরকারে পালাবদল হয়েছে তারপরেই মুখ খুলেছেন শতদ্রু। একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছিল মেসি কাণ্ডের সময়ে।

অন্যদিকে, মেসি কাণ্ডে শতদ্রু দত্তের এফআইআরের ভিত্তিতে ৫ জুনের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিধাননগর থানায় হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের।

শোনা গিয়েছিল বৃহস্পতিবার যেতে পারেন তিনি। সূত্রের খবর, তদন্তকারী আধিকারিকরা থানায় উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু থানায় হাজিরা এড়ালেন মেসি কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত।

বৃহস্পতি সকালে থানায় যাননি অরূপ বিশ্বাস। অসুস্থতার কথা জানিয়ে হাজিরা এড়ান। অরূপ বিশ্বাস পুলিশকে জানান, তিনি অসুস্থ, তাই ১৪ দিন সময় দেওয়া হোক। বুধবার রাতেই তাঁর অসুস্থতার খবর জানিয়ে দেওয়া হয়। জমা দেওয়া হয় মেডিক্যাল সার্টিফিকেটও। 

বুধবার সন্ধে থেকেই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, থানায় হাজিরা এড়াতে চাইছেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। রাতেই জানা যায়, মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। সেটাই সত্যি হল।

শতদ্রু দত্ত নিজের ফেসবুক পেজে লেখেন, 'সমন আসতেই হঠাৎ অসুস্থতা। কিন্তু একটা কথা মনে রাখুন - মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দিয়ে হয়তো সময় কেনা যায়, বিচার থেকে পালানো যায় না। এতদিন সব ঠিক ছিল, সমন আসতেই শরীর খারাপ! কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে, কিন্তু আইনের হাত থেকে পালানোর পথ নয়।' 

এফআইআর দায়েরের পর ‘গ্রেপ্তার হতে পারেন’ এই আশঙ্কায় আদালতে ছুটেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।যুবভারতীতে মেসি কাণ্ডের পরেই ক্রীড়ামন্ত্রিত্ব খোয়ান।

গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় বারাসাত আদালতে আগাম অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন করেছিলেন তৃণমূল নেতা। মেসির কলকাতার অনুষ্ঠান ঘিরে বিশৃঙ্খলার জন্য ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে।

২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় এসেছিলেন মেসি। সেই অনুষ্ঠান ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার হয়। হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও সাধারণ সমর্থকরা গ্যালারি থেকে মেসিকে দেখতে পায়নি।

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং ভিআইপিরাই মেসিকে ঘিরে সেলফি তুলতে ব্যস্ত ছিল। এই ঘটনায় মেসির অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ভোটের ফলাফলের পর প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন শতদ্রু।

সরকার বদলের পর যুবভারতীতে মেসি কাণ্ডে নতুন করে এফআইআর করে বিধাননগর পুলিশ। সেখানে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নাম আলাদা করে উল্লেখ করা হয়। তাঁকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় পুলিশ।