রিয়া পাত্র
জল্পনা তুঙ্গে ছিল। এই মুহূর্তে সেই জল্পনা আরও তুঙ্গে। কারণ বিধানসভার কক্ষে রুদ্ধদ্বার বৈঠক সেরে, স্পিকারের ঘরের দিকে পা বাড়িয়েছেন ঋতব্রত, সন্দীপন। কিছুক্ষণ আগে থেকেই জানা যাচ্ছিল, আজই ৫৮ জন বিধায়ককে নিয়ে, তাঁদের সাক্ষর করা চিঠি নিয়ে গিয়েছেন। অর্থাৎ, যে জল্পনা গত কয়েকদিন ধরে, ছিল, অবসান ঘটল তার। অভিষেক ব্যানার্জির পরপর চিঠি পাঠানোর পরে, সেসবকে একেবারে অগ্রাহ্য করে, নতুন বিরোধী দলনেতা-সহ একাধিক পদে বিধায়কদের নাম স্থির করে জমা দিয়েছে ঋতব্রত গোষ্ঠী। অভিষেকের চিঠিটে যাঁদের নাম উল্লেখ ছিল, তাঁদের বাদ দিয়ে, নয়া চিঠিতে ডেপুটি লিডার হিসাবে উল্লিখিত জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, শিউলি সাহার নাম। অন্য দিকে, মুখ্যসচেতক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে আখরুজ্জামানকে।
তৃণমূলের ডামাডোল পরিস্থিতি নতুন নয়। প্রায় একমাসেই রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দল যেভাবে বে-আব্রু হয়েছে, তা চোখে পড়ার মতো। নেতারা একে অন্যকে সম্মমান জানাচ্ছেন না, মানছেন না দলনেত্রীর কথাও। ক্ষোভ-বিক্ষোভ, কাদা ছেটানোর পালা। দলের নড়বড়ে খুঁটি নড়িয়ে তার মাঝেই মাথা চাড়া দেয় বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী। গত কয়েকদিনের দফায় দফায় বৈঠক শেষে আজই মমতার জোড়া ফুল, আলাদা হয়ে দুই পৃথক ফুল হওয়ার মুখে। আজই। যদিও ওই চিঠিতে ঋতব্রত গোষ্ঠী মমতা ব্যানার্জিকেই দলনেত্রী মেনে চিঠি দিয়েছেন বলে খবর সূত্রের। কিন্তু মমতার নির্দেশ না মেনে, মমতাকে দলনেত্রী মেনে, আদতে কী করতে চাইলেন ঋতব্রতরা? তাঁরা কি পৃথক হলেন তৃণমূল থেকে? এমনিতেই এই সই-কাণ্ডে ঋতব্রত-সন্দীপনকে বহিষ্কার করেছে মমতা-ব্যানারজির দল। ঋতব্রতর নাম না করেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলনেত্রী। ফলে ঋতব্রতরা চিঠিতে আলাদা দল উল্লেখ না করে, মমতাকেই দলনেত্রী মানলেও, মমতা কতটা তাঁদের দলের সৈনিক ভাববেন এখন, সেটা বড় প্রশ্ন।
অন্যদিকে মমতা ব্যানার্জি-অভিষেক ব্যানার্জির তৃণমূল থেকে বেরিয়ে 'আসল তৃণমূল' গঠন করেন বিক্ষুব্ধ বিধায়করা, তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরিখে তাঁদের উপর কার্যকর হবে না দলত্যাগ বিরোধী আইন। উলটে মমতা-অভিষেককেই পড়তে হবে আরও বড় বিড়ম্বনায়। যে বিড়ম্বনায় পড়েছিলেন উদ্ধব ঠাকরে। নিজে হাতে দল গড়েছিলেন যিনি, তাঁকেই দাঁড়াতে হবে আস্থা ভোটে। টানাটানি হতে পারে প্রতীক নিয়ে, দলের নাম নিয়ে। কিন্তু তার থেকেও বড় প্রশ্ন, শিবসেনা কিংবা এনসিপির মতো তৃণমূল দুই গোষ্ঠীতে ভাগ হলে, ঋতব্রতর নতুন গোষ্ঠী, 'আসল তৃণমূল' দেশের বিচারে থাকবেন কোন গোষ্ঠীতে? বিরোধী দল হিসেবে ইন্ডিয়া জোটে, নাকি শিবসেনা একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠী কিংবা এনসিপি অজিত পাওয়ার গোষ্ঠীর মতো বিজেপির হাত ধরে যেভাবে এনডিএ জোটে রয়েছে, যুক্ত হবে সেখানেই?















