আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার। ২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়ে বিজেপি নেতৃত্বের কাছে আবেদনও জানিয়েছেন রিঙ্কু। জমা দিয়েছেন বায়োডেটা। কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে তা সম্পূর্ণ দলের উপরে ছেড়ে দিয়েছেন দিলীপ এবং রিঙ্কু দু’জনেই। স্ত্রীর এই ইচ্ছেতে অস্বাভাবিক কিছু দেখেননি খড়গপুরের প্রাক্তন বিধায়ক। অন্যদিকে, দলের অন্য বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল প্রশ্ন তুলেছেন, “দিলীপদার স্ত্রী বলে স্বপ্ন দেখতে পারবেন না রিঙ্কুদি?” দিলীপ-জায়ার এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর। দলের ভিতরে এবং বাইরে জল্পনা তুঙ্গে।
দলীয় সূত্রে খবর, মেদিনীপুর, বিজপুর বা নিউটাউন এই তিনটি আসনের যে কোনও একটি থেকে লড়াই করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন রিঙ্কু। অন্যদিকে, নিজের পুরনো আসন খড়গপুর থেকে লড়াই করতে চান দিলীপ। বায়োডেটা জমা দেওয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রিঙ্কু দলের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
নিজেকে দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী বলে দাবি করে থাকেন রিঙ্কু। শুরু থেকে দলের মধ্যে পদমর্যাদা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে আসছেন তিনি। রিঙ্কুর দাবি, ২০১২ সালে নিউটাউন এলাকায় তিনি একজন সাধারণ বিজেপি কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। রাজ্য নেতারা তাঁকে দলের কার্যপ্রক্রিয়া বোঝার জন্য বুথ স্তরে কাজ করতে বলেছিলেন। তিনি বলেন, “পঞ্চায়েত এলাকায় কাজ করতে বলা হয়েছিল আমায়। অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু দলে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে দমে যাইনি কখনও। আমি কখনওই উৎসাহ হারাইনি এবং তার ফলও মিলেছে।”
রিঙ্কু দাবি করেছেন যে তিনি তাঁর কাজের উপর ভিত্তি করে ভোটে লড়াই করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। দিলীপ ঘোষের স্ত্রী হওয়ার কোনও সুযোগ পাওয়ার জন্য নয়। তিনি বলেন, “আমি সম্প্রতি তাঁকে বিয়ে করেছি। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দলে রয়েছি আমি। আমি আমার ছেলের মৃত্যুর হয়েছে। কিন্তু সেই ঘটনাও আমাকে বিজেপির প্রতি আমার দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে পারেনি।” তাঁর আরও সংযোজন, “আমি আশা করি দলীয় নেতারা আমার কাজ লক্ষ্য করবেন এবং তা স্বীকৃতি দেবেন।”
খড়গপুরের প্রাক্তন বিধায়ককে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ জানান, রিঙ্কু দলে তাঁর থেকে পুরনো কর্মী। তিন বলেন, “আমি এমএলএ, এমপি হয়ে গেলাম। ওঁর ইচ্ছা হয়েছে তাই আবেদন করেছে। হাজার হাজার লোক আবেদন করছে। কে প্রার্থী হবেন, তা দল ঠিক করবে।”
বিষয়টি নিয়ে বিজেপি নেত্রী তথা বিধায়ক অগ্নিমিত্রা বলেন, “দিলীপদার স্ত্রী বলে স্বপ্ন দেখতে পারবেন না রিঙ্কু দি?” তিনি আরও বলেন, “যদি আর পাঁচজন সাধারণ নেতা নেত্রীর অধিকার থাকে ভোটে দাঁড়ানোর ইচ্ছে প্রকাশ করার, তাহলে রিঙ্কুর ক্ষেত্রেই বা বা বাধা কোথায়? অন্তত আমাদের দলে এই স্বাধীনতা দেওয়া হয়ে থাকে।”
২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে খড়গপুর থেকে জিতেছিলেন দিলীপ। ২০১৯-এ মেদিনীপুর থেকে জিতে সাংসদ হন। ২০২৪ সালে তাঁকে বর্ধমান-দুর্গাপুরে দাঁড় করানো হয়। কিন্তু তিনি হেরে যান। এর পর নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিয়েছিলেন দিলীপ। সম্প্রতি আবার তাঁকে ময়দানে দেখা যাচ্ছে। ভোটে লড়ার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছেন দলীয় নেতৃত্বের কাছে। টিকিট পাবেন কি না তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সেই জল্পনার পালে আরও হাওয়া দিলেন রিঙ্কু।
