আজকাল ওয়েবডেস্ক: বোলপুরের নেতাজি বাজার এলাকায় প্র্যাঙ্ক ভিডিও শুট করতে গিয়ে মারধরের শিকার হলেন ইলামবাজারের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, আর সেই ভিডিও ঘিরেই শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক ও পাল্টা দাবি।

জানা গিয়েছে, ইলামবাজারের মরুন্ডি গ্রামের বাসিন্দা ওই ক্রিয়েটর ফেসবুকের জন্য একটি হাস্যরসাত্মক ভিডিও তৈরি করছিলেন। অভিযোগ, ভিডিওর অংশ হিসেবে তিনি পাগল সেজে বাজারে ঘোরাফেরা করছিলেন এবং একটি সবজির দোকানের সামনে চুরি করার অভিনয় করছিলেন বলে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে। সেই সময়ই আচমকা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর নেতাজি বাজারেরই এক হোটেল ব্যবসায়ী মইনুল শেখ তাঁকে চোর সন্দেহ করে চড়াও হন এবং বচসার জেরে হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ, তাঁকে লাঠি নিয়ে মারধর করা হয়। এতে তাঁর হাতে গুরুতর চোট লাগে বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজিত পরিস্থিতির মধ্যে ধস্তাধস্তি চলছে। যদিও ভিডিওতে পুরো ঘটনার শুরুটা ধরা পড়েনি, ফলে কী কারণে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হল তা স্পষ্ট নয়। যুবকের দাবি, তিনি স্পষ্টভাবেই ভিডিও শুট করছিলেন এবং আশপাশের অনেকে তা দেখছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁকে মারধর করা হয়। তাঁর প্রশ্ন, ভিডিও বানাচ্ছি দেখার পরও এরকম ভাবে মারতে পারল? যদিও তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকবেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত মইনুল শেখ সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি কোনও হাসি বা মজার ছিল না। তাঁর দাবি, ওই যুবক দোকান থেকে সবজি নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন এবং আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁকে আটকানো হয়। মইনুলের কথায়, বাজারে প্রতিদিন বহু মানুষ আসেন, সেখানে যদি কেউ হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ করেন বা জিনিসপত্র নিয়ে নেন, তাহলে সন্দেহ হওয়াই স্বাভাবিক। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় হাতাহাতি হয়েছে, তবে কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মারধর করার ইচ্ছে ছিল না। তাঁর দাবি, এটি সম্পূর্ণ ভুল বোঝাবুঝির ফল।

ঘটনার পর থেকেই এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। একাংশের মতে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কখনওই সমর্থনযোগ্য নয়। সন্দেহ থাকলে পুলিশে খবর দেওয়াই উচিত ছিল। আবার অন্য অংশের প্রশ্ন, জনবহুল বাজারে এই ধরনের ভিডিও বানানো কতটা যুক্তিযুক্ত? এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে বলেও মত প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। এই মারধর তারই ফলাফল।

বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ভাইরাল হওয়ার নেশায় কনটেন্ট বানাতে বুঁদ হয়েছে যুবসমাজ। কেউ অশ্লীলতাকে আশ্রয় করছেন আবার কেউ চটকদার ভিডিও বানাচ্ছেন। কেউ পাগল সেজে ভিডিও বানাচ্ছেন। এই নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে বর্তমান যুবসমাজ। এর ফলে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রবীণরা। অনেকে আবার বেকারত্বের জ্বালা দেখছেন এর মধ্যে। তবে এরকম ভিডিও বানাতে গিয়ে মার খাওয়া বা এরকম ভিডিও বানানো কতটা প্রাসঙ্গিক সেই নিয়ে সর্বত্র তর্ক শুরু হয়েছে।

যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফলে প্রশাসনের তদন্তেই সামনে আসবে প্রকৃত সত্য। আপাতত ভাইরাল ভিডিও ও দু’পক্ষের দাবিকে ঘিরে ধোঁয়াশা কাটেনি, বরং সোশ্যাল মিডিয়াতেই চলছে তুমুল আলোচনা।