সোহম দাস: ভোরের নরম আলোয় কিংবা সন্ধ্যার নিস্তব্ধতায় জমির চারপাশে ভেসে উঠছে ‘হরিনাম সংকীর্তন’-এর সুর। আর সেই সুরের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এক চাষির অনুশোচনা, বিশ্বাস আর মানবিকতার গল্প। কে কোন আসন দখল করবে সেই নিয়ে যখন মানুষ মানুষের সঙ্গে একদিকে লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন পশ্চিম বর্ধমানে কাঁকসার বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা সুধাময় পাতর কোনও দিকে মন না দিয়ে একমনে নিজের ক্ষেতের পাশে হরিনাম সংকীর্তন করে চলেছেন। উদ্দেশ্য, 'পাপ' মুক্তি। 

জানা গিয়েছে, নিজের প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন সুধাময়। ফসল বাঁচাতে তিনি জমিতে কীটনাশক স্প্রে করেন। যার ফলে বহু কীট-পতঙ্গের মৃত্যু হয়। এতে করে ফসল বাঁচলেও ঘটনার পরেই নিজের 'অন্যায়' কাজ নিয়ে গভীর অনুতপ্ত হয়ে পড়েন তিনি।‌ ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই  সুধাময় এরপর জমির চারপাশে ‘হরিনাম সংকীর্তন’ করছেন দিনরাত। 

তাঁর কথায়, অজান্তেই বহু প্রাণের ক্ষতি হয়েছে, তাই ভগবানের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেই এই প্রয়াস। প্রতিদিনের কৃষিকাজের মধ্যেও যে মানবিক বোধ ও জীবজগতের প্রতি সংবেদনশীলতা থাকতে পারে, এই ঘটনা যেন তারই এক প্রতিফলন। এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় কৌতূহল ছড়িয়েছে।