মিল্টন সেন

 

সরকারি ত্রাণসামগ্রী চুরির অভিযোগে কর্ণাটক থেকে গ্রেপ্তার তারকেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক তথা আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি রামেন্দু সিংহ রায়। রবিবার রাতে তিন দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে ধনিয়াখালি থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। সোমবার তাঁকে চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হয়। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১১ জুন ধনিয়াখালির কোটালপুর এলাকায় রামেন্দু সিংহ রায়ের বাড়ি সংলগ্ন বিবেকানন্দ টিচার্স ট্রেনিং কলেজে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল রাজ্য সরকারের লোগোযুক্ত ত্রিপল, কম্বল, ডাস্টবিন-সহ বিভিন্ন সামগ্রী। এই ঘটনায় ধনিয়াখালি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়।

অভিযোগের ভিত্তিতে বেআইনিভাবে সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা, হুমকি দেওয়া-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। পাশাপাশি, বেআইনি অস্ত্র আইনের ধারাতেও মামলা দায়ের করা হয় প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে। তদন্তের জন্য হুগলি গ্রামীণ পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন রামেন্দু সিংহ রায়। তদন্তকারীদের দাবি, প্রথমে তিনি ওড়িশায় যান। সেখান থেকে বিশাখাপত্তনম, হায়দরাবাদ হয়ে শেষ পর্যন্ত কর্ণাটকে আশ্রয় নেন।

স্মার্টফোনের পরিবর্তে সাধারণ কী-প্যাড ফোন ব্যবহার করায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় পুলিশকে। তবে শেষ পর্যন্ত কর্ণাটকের সাহাপুর থানা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

এদিকে, ধৃত প্রাক্তন বিধায়ককে থানায় আনার সময় ধনিয়াখালি থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠে। বিক্ষোভকারীদের একাংশের তরফে ডিম ছোড়া হয়। এমনকী, অনেকে জুতোর মালাও দেখান।

অন্যদিকে, তারকেশ্বর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বর্তমান কাউন্সিলর স্বপন সামন্তকেও তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অভিযোগে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।

তারকেশ্বরের পদ্মপুকুর এলাকায় তাঁর গলায় জুতোর মালা পরিয়ে মিছিল করানো হয় বলে অভিযোগ। সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করেও ডিম ছোড়া হয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বহু মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুগলির রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

ছবি: পার্থ রাহা