আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালের রাজ্য বাজেট পেশ হওয়ার পর থেকেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। এবার এই বাজেট নিয়ে রাজ্য সরকারকে একযোগে তীব্র নিশানা করল বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব। মুর্শিদাবাদ জেলাকে চরম অবহেলা করা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার অভিযোগে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। বিধানসভা ভবন ও তার বাইরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই বাজেটকে একহাত নিয়েছেন ডোমকলের সিপিআই(এম) বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান এবং কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা।
বিধানসভায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ডোমকলের সিপিআই(এম) বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান এই বাজেটকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি এটিকে "জনমোহিনী মুখোশের আড়ালে অন্তসারশূন্য বাজেট" বলে আখ্যা দিয়ে সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের বাজেট বরাদ্দের খতিয়ান তুলে ধরেন। তাঁর ক্ষোভ, ২০২৫ সালে এই দপ্তরের বরাদ্দ যেখানে ছিল ৫,৭১৩.৬১ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৬ সালের বাজেটে তা এক ধাক্কায় কমিয়ে মাত্র ২,১৬৫.৪২ কোটি টাকা করা হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৩,৫৪৮.১৯ কোটি টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। মোস্তাফিজুর বাবু বলেন, একদিকে যখন "সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা উন্নয়ন"-এর বড় বড় কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে বাজেটে তার কোনও প্রতিফলনই নেই। এছাড়া মুর্শিদাবাদ ও মালদার অন্যতম প্রধান সমস্যা নদী ভাঙন রোধে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়নি। পরিবেশ রক্ষা কিংবা পরিযায়ী শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের কোনও দিশা এই বাজেটে মেলেনি, এমনকি ঝুলে থাকা SSC ও TET নিয়োগের জট কাটানোর বিষয়েও কোনও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি।
বাজেট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে ছাড়েনি কংগ্রেস শিবিরও। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এক কংগ্রেস প্রতিনিধি জুলফিকার আলী রানীনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক। এই বাজেটকে "প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দলিল" বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ইশতেহারে ডিএ দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা রক্ষা করা হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ৪২% ডিএ দেওয়ার কথা থাকলেও, বাজেটে মাত্র ২০% দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি কর্মীদের সাথে বড় বঞ্চনা। কংগ্রেসের এই প্রতিনিধির অভিযোগ, গোটা বাজেট জুড়েই কেবল উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলের কথাই বলা হয়েছে, যেখানে বিমানবন্দর বা এইমস (AIIMS) তৈরির মতো ঘোষণা করা হলেও, মুর্শিদাবাদ জেলাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। জেলার প্রধান অর্থনৈতিক ভিত্তি বিড়ি শিল্পের উন্নয়নে কোনও বরাদ্দ রাখা হয়নি এবং মুর্শিদাবাদে একটি গার্লস কলেজ বা নতুন কলেজের জন্য যে দীর্ঘদিনের আন্দোলন ছিল, তাকেও পুরোপুরি নজরআন্দাজ করা হয়েছে। তবে আশা কর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি এবং মিড-ডে মিল কর্মীদের ১,০০০ টাকা ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে তিনি ইতিবাচক বললেও মনে করেন মিড-ডে মিল কর্মীদের জন্য আরেকটু ভাবা যেত। সবশেষে তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজকোষের বর্তমান যা পরিস্থিতি, তাতে এই সমস্ত গালভরা ঘোষণা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়েই বড়সড় সংশয় রয়েছে।















