আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু'র তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর আনুমানিক ৬ লক্ষ ৬০ হাজার মহিলা সার্ভাইক্যাল বা জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে প্রথম সারিতেই রয়েছে চীন ও ভারত।
বিশ্বব্যাপী মহিলারা যে সব ক্যান্সারের আক্রান্ত হন, তার মধ্যে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার রয়েছে চতুর্থ স্থানে। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায়৩ লক্ষ ৫০ হাজার মহিলা এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। অর্থাৎ, বিশ্বে প্রতি দুই মিনিটে প্রায় একজন নারী এই রোগে প্রাণ হারান। মৃতদের মধ্যে প্রায় এক তৃতীয়াংশ মহিলাই ভারতের। ভারতে প্রতি ১ লাখে ১৪ জন করে নতুন ভাবে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
তবে চিকিৎসকদের মতে, সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের টিকা নিলে ক্যান্সার প্রায় ৭৫-৮০ শতাংশ প্রতিহত করা সম্ভব হয়। প্রথম স্টেজেই ধরা পড়ে চিকিৎসা করা গেলে এই রোগ থেকে প্রতিকার মেলে। হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস বা এইচপিভি ভ্যাকসিন বা টিকা নেওয়া এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং বা জরায়ুমুখ পরীক্ষার (যেমন: প্যাপ স্মিয়ার বা এইচপিভি পরীক্ষা) মাধ্যমে এই রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।
রাজ্যের তরফে কী ঘোষণা?
রাজ্যে পালাবদলের পর ক্ষমতায় এসেই বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় রোগ প্রতিরোধে উদ্যোগী কেন্দ্র। সেই কর্মসূচিরই অংশ হিসাবে বাংলায় বিনামূল্যে টিকাকরণ কর্মসূচি হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রের তরফ থেকে বাংলায় জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধের ৭ লক্ষ ডোজ টিকা পাঠানো হচ্ছে। বিধানননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে শুরু হবে এই টিকাকরণ কর্মসূচি। সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের প্রতিষেধক ৭ লক্ষের বেশি দেওয়া হবে পশ্চিমবঙ্গে। ১৪-১৫ বছরের কিশোরীদের দেওয়া হবে এই টিকা।
টিকা নিতে চাইলে কী করতে হবে?
গত ৩০ মে থেকে শুরু হয় এই কর্মসূচি। আগ্রহীদের এর জন্য প্রথমে 'U-WIN' ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গিয়ে এইচপিভি টিকাকরণের জন্য নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে হবে।
সহায়তার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রি-রেজিস্ট্রেশনের কাজও করবেন। এ ছাড়া, সরাসরি টিকাকরণ কেন্দ্রে গিয়েও নাম নথিভুক্ত করা যাবে।
টিকাকরণের সময় শনাক্তকরণের জন্য উপভোক্তার বাঁ হাটের তর্জনীতে কালি দিয়ে দাগ দেওয়া হবে।
টিকাকরণের পরে 'U-WIN' পোর্টাল থেকে সার্টিফিকেট ডাউনলোড করা যাবে। এ ছাড়া, হার্ড কপিও বিতরণ করা হবে প্রতিষেধক প্রাপকদের।















