আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধাননগরে সাংবাদিক বৈঠকে বড় ঘোষণা দিলীপ ঘোষের। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় একাধিক বড় প্রশাসনিক সংস্কারের কথা ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি, বিপুল সংখ্যক নিয়োগের কথাও ঘোষণা করেছেন। দুর্নীতি রুখতে পঞ্চায়েত স্তরে ব্যাপক বদলি, স্বচ্ছ নিয়োগ এবং একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ জোর দিয়েছেন।
দিলীপ বলেন, "দেশের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা বহু পুরনো। অটল বিহারী বাজপায়ী যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকে এই ব্যবস্থা লাগু হয়েছে। দেশের পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে তাই দুর্নীতিমুক্ত করতে চাই। গ্রামোন্নয়ন দফতরে সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করতে শুরু করেছে। পঞ্চায়েত গ্রামোন্নয়ন দফতর সব কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু করেছে। আবাস যোজনায় সব তথ্য ও নথি ঠিকমতো খতিয়ে দেখে তবেই অনুমোদন দেওয়া হবে। সেই মতো বরাদ্দ টাকা মিলবে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (গ্রামীণ)-এর জন্যও সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। জেলা উন্নয়ন পর্যবেক্ষকরা দিশা কমিটির অধীনে কাজ করবেন। সেখানে সাংসদ, বিধায়ক এবং জেলাশাসকরা উপস্থিত থাকবেন।এত বছর ধরে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেই ব্যবস্থাই পাল্টে দিয়ে স্বচ্ছ নিয়োগ করতে চাই।"
তিনি বলেন, " আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পঞ্চায়েত দপ্তরে একাধিক পদে ১১ হাজার ১৫৪টি শূন্যপদে কর্মী নিয়োগ করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হবে ভিন রাজ্যের সংস্থাকে। এ ছাড়াও আগামী দিনে পঞ্চায়েত এলাকাগুলির পুনর্বিন্যাস করা হবে। এ জন্য সমীক্ষা চালাচ্ছে দপ্তর।"
পঞ্চায়েত মন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্র ও রাজ্য মিলিয়ে প্রায় ২,৫০০ পঞ্চায়েতের কাজ আগে শুরু হয়নি। তিন বছর ধরে একই অঞ্চলে কর্মরত ১১০০ জনকে চলতি মাসের মধ্যেই বদলি করা হবে। দুর্নীতি রোখার জন্য এই পদক্ষেপ। এ বার নিয়মিত স্পেশাল অডিট করা হবে। পাশাপাশি, এক লক্ষ নতুন স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ে তোলা হবে এবং গোষ্ঠী পিছু সাড়ে তিন লক্ষ টাকা ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
দিলীপ বলেন, "কেন্দ্রে এবং বিভিন্ন রাজ্যে যে সব সংস্থা ভাল ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালায়, আমরা এই নিয়োগের জন্য ওই সংস্থাগুলিকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসব। নিয়োগ পদ্ধতিটি হবে স্বচ্ছ। রাজ্যের পঞ্চায়েতে তিনটি স্তরে মোট ১১,১৫৪টি পদ খালি রয়েছে। তার মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েতে ৯,৯৩৬টি, পঞ্চায়েত সমিতিতে ৬৬০ এবং জেলা পরিষদ এবং মহকুমা স্তরে ৫৫৮টি পদ ফাঁকা। পঞ্চায়েত গ্রামোন্নয়ন দফতর কেন্দ্রের সমস্ত প্রকল্প চালু করেছে। গ্রাম সড়ক যোজনায় ২৭৯০ কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা এবং সেতুও তৈরি হবে। ২৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে গ্রাম পঞ্চায়েতে। যে সমস্ত পরিবারের 'জব কার্ড' রয়েছে, তাঁরা প্রাপ্য টাকা পাবেন। শুরু হবে ১০০ দিনের কাজও।"















