বিউ সরকার: বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই। বিশ্বজুড়ে মহাসমারোহে পালিত হতে চলেছে পুণ্য রথযাত্রা উৎসব। রথে চেপে বোন সুভদ্রা ও দাদা বলরামকে সঙ্গে নিয়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেবেন জগতের নাথ জগন্নাথদেব।
এদিকে মাসির বাড়িতে রাজকীয় অতিথিদের আপ্যায়নে যাতে কোনও খামতি না থাকে, তার জন্য কোমর বেঁধে নেমেছেন ভক্তরা। তাঁদের 'রসনাতৃপ্তির' জন্য তৈরি হচ্ছে এলাহি ‘ছাপান্ন ভোগ’। নামে ছাপান্ন হলেও, আদতে পদের সংখ্যা কিন্তু একশো ছাড়িয়ে যায়।
রথযাত্রার দিন ঠিক সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয়ে যায় মহাপ্রভুর ভোগ নিবেদন। তিন ভাইবোনের জন্য সমপরিমাণে নিবেদিত হয় ৩০ থেকে ৩৫ রকমের পদ। এরপর যখন জগন্নাথদেব রথে চেপে মাসির বাড়ির পথ ধরবেন, তখন যাত্রাপথে তাঁর জন্য সাজিয়ে দেওয়া হয় শুকনো খাবার, মিষ্টি ও হরেক রকমের ফল।
তাতে থাকবে খাজা, গজা, মগজ লাড্ডু, খুরমা, মিষ্টি শঙ্করপালি (শাক্করপাড়া), ঠেকুয়া, ঐতিহ্যবাহী ‘জগন্নাথ বল্লভ’, গুড় মাখানো কোরা খই, শুকনো নারকেলের টুকরো (নাড়িয়া কোরা) ও মিষ্টি খই।
নোনতা ও মুখরোচকের মধ্যে থাকবে সুহালি, কলার চিপস, নোনতা খুরমা, বিশেষ নমকিন মিশ্রণ, সেভ, চিঁড়ের পোলাও (চিভড়া), মশলা চিনাবাদাম ও ভাজা ছোলা।
থাকবে ওড়িশার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ছেনাপোড়া, আরিসা পিঠা, কাকরা পিঠা, পোড়া পিঠা, ছেনা গজা, রসাবলি ও ছেনা ঝিলি। সঙ্গে থাকবে একাধিক ফল- আম, কলা, কাঁঠাল, নারকেল, আপেল ও খেজুর।
অবশেষে মাসির বাড়িতে জগন্নাথদেব পৌঁছলে নিবেদিত হয় আসল ‘ছাপান্ন ভোগ’। এই মেনুতে পেঁয়াজ ও রসুনের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ভোগে থাকবে গোবিন্দভোগ চালের সুগন্ধি সাদা ভাত, হিং দিয়ে তৈরি অড়হর ডাল, মুগ ডালের সুস্বাদু খিচুড়ি, ওড়িশার ঐতিহ্যবাহী জল-ভেজানো ঠান্ডা ভাত ‘পখালা’ এবং বড়ি দিয়ে নটের শাক।
জিরে বাটা ও সর্ষে বাটা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন মরশুমি সবজি। থাকছে ওড়িশার বিখ্যাত ‘ডালমা’ (মুগ বা অড়হর ডাল এবং কাঁচকলা, মিষ্টি আলু, পেঁপে, সজনে ডাঁটা, কুমড়ো ও বেগুন দিয়ে তৈরি বিশেষ পদ)। এছাড়া কলার বড়া দিয়ে তৈরি ঝোল ‘কদলী’, আম ও আনারস দিয়ে তৈরি চাটনি এবং টক-মিষ্টি স্বাদের হাতিফল ও গুড়ের বিশেষ পদ ‘ঔউ খট্টা’। থাকছে কাঁচকলা, কুমড়ো, কচু, পটল ও ঝিঙের রসা এবং জিরা-আদা দিয়ে তৈরি ঢেঁড়স ও ফুলকপির তরকারি।
পাশাপাশি থাকবে বিউলির ডালের বড়া, সুয়ারা বড়া, কাকরা পিঠা, মান্ডা পিঠা এবং এন্ডুরি পিঠা। ক্ষীর, সুস্বাদু পায়েস, রাবড়ি, মিষ্টি দই ও ছেনা ক্ষীরিও থাকবে।
কলকাতা ইস্কন-এর চেয়ারম্যান অনঙ্গ মোহন দাস জানান, "জগতের নাথ যে ক'দিন মাসির বাড়িতে থাকবেন, ততদিন তাঁর পছন্দের সব ধরনের খাবার তৈরি করে তাঁকে সন্তুষ্ট করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন ভক্তরা। এই সাতদিন আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করি মহাপ্রভুকে নিত্যনতুন রকমারি পদ রেঁধে ভোগ নিবেদন করতে।"
















