আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার ফের একবার ভাঙন দেখা দিয়েছে 'মমতা পন্থী' তৃণমূল কংগ্রেসে। সকলকে অবাক করে দিয়ে মমতা ব্যানার্জিকে ছেড়েছেন তাঁর অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত মদন মিত্র। বুধবার দুপুরে রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জির সঙ্গে  দেখা করে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথার ঘোষণা করেছেন মদন মিত্র। 

 

এই ঘটনার পরই মদন মিত্র এবং 'বিদ্রোহী তৃণমূল' বিধায়কদের একহাত নিয়েছেন বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। বুধবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবে তিনি বলেন," উনি বাহাদুরি দেখিয়েছিলেন, বিপ্লবী সাজার চেষ্টা করেছিলেন। মমতা ব্যানার্জির পাশে থেকে বড় বড় বাতেলা দিয়েছেন। পুলিশ দু'বার গিয়ে বাড়িতে 'রেড' করতেই সব গল্প শেষ।"


 অধীর চৌধুরী আরও বলেন,"খোকাবাবুর পর রাজ্যে নতুন একটি সেবাশ্রয় শুরু হয়েছে সেটি হল পুলিশের সেবাশ্রয়। পুলিশের হূক পড়লে,  চুরি-বাটপারি করে সোজা চলে যাও নতুন কী একটা দল হয়েছে সেই দলের কাছে। তারাই পুলিশের কাছ থেকে বাঁচার সব ব্যবস্থা করে দেবে। পুলিশ থেকে বাঁচার জন্যই ওই বিরোধী দল। সব 'দাগী' এক জায়গায় চলে যাও চুরি-বাটপারি করে ভয় পেয়ো না।"


অধীর চৌধুরী বলেন,"যে সমস্ত বিধায়ক 'বাগী' সাজার  চেষ্টা করছেন তারা আদতে 'দাগী'। পুলিশের সেবাশ্রয় গেলেই তাঁদের একমাত্র বাঁচার পথ। দেখবেন যাঁদের বাড়িতে পুলিশের 'রেড' হচ্ছিল পুলিশের ডাক আসছিলো পুলিশের সেবাশ্রয়ে গেলে সেই ডাক, 'রেড' বন্ধ হয়ে যাবে। এখানে সম্পূর্ণ ব্যবস্থা আছে চোরদেরকে নিরাপত্তা দেওয়ার। "


এর পাশাপাশি অধীর চৌধুরী অভিষেক ব্যানার্জির বাড়বাড়ন্তের জন্য মমতা ব্যানার্জিকে দায়ী করেন। তিনি বলেন," মমতা ব্যানার্জি আশ্রয় প্রশ্রয় সমর্থন ছাড়া খোকাবাবু এত বড় জায়গায় যেতে পারতেন না। দিদি নিজের দলের পরবর্তী প্রজন্মের ব্যক্তিদের প্রভাব ও উত্থান সহ্য করতে পারতেন না। তাঁদের ম্লান করতে চেয়েছেন, সেখান থেকেই খোকাবাবুর উত্থান।"


 অধীর চৌধুরী বলেন,"মমতার দলের মধ্যে তাঁর প্রাক্তন সহকর্মী শুভেন্দুর প্রতিপত্তি বাড়ায় তিনি অসুরক্ষিত বোধ করেছেন। তাই তাঁকে 'কাউন্টার' করতে একজন দরকার ছিল। তার মনে হয়েছিল সবথেকে বড় বিশ্বস্ত ব্যক্তির নাম অভিষেক ব্যানার্জি। তাই তাঁকে বাজারে খাড়া করা হয়েছিল।"


 অধীর চৌধুরী ব্যঙ্গ করে বলেন," তৃণমূল কংগ্রেসের এখন যা অবস্থা তার জন্য নতুন রাজনৈতিক ব্যকরণ খুঁজতে হবে। এরপরে হয়তো ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে প্রশ্ন আসবে তৃণমূল কংগ্রেস কয় প্রকার এবং কী কী ব্যাখ্যা সহ বুঝিয়ে দাও। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থায় এটি একটি নতুন অধ্যায় হওয়া উচিত।"


 রাজ্যের বিভিন্ন পঞ্চায়েতে প্রধানদের 'ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার' যে ঘটনাগুলি সামনে এসেছে তার বিরুদ্ধেও এদিন সরব হন অধীর চৌধুরী। তিনি বললেন,"মনে করলে এভাবে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া যায় না। তৃণমূল আমলে চুরি শিল্পে পরিণত হয়েছিল। প্রধান চোর মানে তো গোটা প্রতিষ্ঠান চোর নয় বা গোটা প্রতিষ্ঠান অক্ষম নয়। সরকারী আধিকারিকরা চৌর্যবৃত্তিতে মদত না দিলে এত চুরি করা সম্ভব ছিল না।"

&t=1s