রিয়া পাত্র: দশ ছিল। কোয়েলের ইস্তফার পর হল নয়। অর্থাৎ তৃণমূলের আর ন'জন সাংসদ রইলেন উচ্চকক্ষে। এর আগে ইস্তফা দিয়েছিলেন সুস্মিতা দেব, সুখেন্দু শেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক। তিন আসনে ভোট ঘোষণা করেছে কমিশন। ওই তিন জনই আবার বিজেপিতে যোগ দিয়ে, প্রার্থী হয়েছেন গেরুয়া শিবিরের। ১৫ জুলাই ছিল মনোনয়ন যাচাইয়ের শেষ দিন। ১৭ জুলাই পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। এর মাঝেই, ১৬ জুলাই, রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কোয়েল মল্লিক। ঠিক মনোনয়ন যাচাইয়ের শেষ দিনের পরের দিন। কোয়েল কি এবার বিজেপিতে যাবেন? নাকি সরে দাঁড়াবেন রাজনীতি থেকে? প্রশ্ন তা নিয়ে। তারসঙ্গেই জল্পনা, যদিও কোয়েল আগেই ইমেল মারফত ইস্তফা পত্র পাঠিয়েছিলেন, তবে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে সশরীরে ইস্তফা দিতে হত উপরাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে। মাঝের সময়কালে তিনি বিদেশেও গিয়েছিলেন। প্রশ্ন, কোয়েল যদি আগেই ইস্তফা দিতেন? যদি চার আসনে ভোট হত? তাতে কি বিজেপির সুবিধে হত? নাকি সুবিধে হত তৃণমূলের। রাজ্যসভার অঙ্ক কী বলছে?
প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ, তৃণমূল বিধায়ক এবং বর্তমান বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জি কী বলছেন? আজকাল ডট ইন-কে ঋতব্রত সংসদের উচ্চকক্ষের নিয়মের পাটিগণিত-বীজগণিত কষে বলছেন, 'রাজ্যসভার অঙ্ক খুব ইন্টারেস্টিং। যদি কোয়েক মল্লিক আগেও ইস্তফা দিতেন, তাহলেও প্রত্যেকের জন্য ১৪৭ করেই ভোট লাগত। আমরা তখনই কোনও আসন জিততে পারব, যখন একসঙ্গে পাঁচ আসনের ভোট হবে। সুস্মিতা দেব-প্রকাশ চিক বরাইক-সুখেন্দু শেখর রায় একদিনে ইস্তফা দেননি। কিন্তু তাঁদের যদি কোনও দু'জনেও একদিনে ইস্তফা দিতেন, তখনই বদলে যেত অঙ্ক । একসঙ্গে পাঁচ আসন খালি হওয়ার পর, যদি ভোট হয়, তখনই আমরা ভোটে আসন জিততে পারব।' উল্লেখ্য, কোনও রাজ্যের বিধানসভায় একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির সংখ্যার নিরিখে বিচার হয়ে থাকে, সংসদে সেই দল কতগুলি সাংসদ আসন জিততে পারেন।
কিন্তু, এভাবে তিন আসনে ভোট করিয়ে বিজেপির লাভ কী হল? কোয়েল পৃথকভাবে ইস্তফা দেওয়ায় কী লাভ হবে বিজেপির? তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বলছেন, 'বিজেপির উদ্দেশ্য দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। সেটা এখনও সংসদের দুই কক্ষে হয়নি। উদ্দেশ্য, ডিলিমিটেশন পাশ করা। একবার তা পাশ হয়ে গেলে, যা খুশি তাই করতে পারে তারা। তৃণমূলের ভাঙার এই একটাই কারণ।'
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, আগামী ২৪ জুলাই তিনটি আসনে উপনির্বাচন। তিন জনই জিতবেন যদি ধরে নেওয়া যায়, তাহলে লাভের গুড় খাবে বিজেপিই। তিনটি আসন জিতলে রাজ্যসভায় বিজেপির আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ১১৭। যা সর্বকালের সর্বোচ্চ। এনডিএ জোটের সাংসদ সংখ্যা দাঁড়াবে ১৫২। এর ফলে উচ্চকক্ষে জোটের অবস্থান আরও সুসংহত হবে। রাজ্যসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনী ১২৩ আসন। ম্যাজিক ফিগার থেকে বিজেপির মাত্র ছ’টি আসন কম রয়েছে। কোনও ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেলে আর কোনও বিল পাশে বাধা থাকবে না বিজেপির।
কাগজে-কলমে রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এনডিএ পিছিয়ে থাকলেও, গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটির সময় ইস্যুভিত্তিক সমর্থন অথবা আঞ্চলিক দলগুলি ভোটদানে বিরত থাকলেই এই ব্যবধান কমে আসতে পারে। এই ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনী বিলগুলি পাশ করাতে কম বেগ পেতে হবে বিজেপিকে। বাদল অধিবেশন কেন্দ্র ফের সীমানা পুনর্বিন্যাস, মহিলা সংরক্ষণের মতো সংবিধান সংশোধনী বিলগুলি পেশ করতে পারে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে এনডিএ জোটের দরকার ১৬৬টি ভোট। এই ক্ষেত্রে আঞ্চলিক দলগুলি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে পারে।
















