কয়েক মাস আগেও সোনা ও রুপোর বাজার যেন থামার নামই নিচ্ছিল না। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই সোনার দাম নতুন রেকর্ড গড়ছিল, আর রুপোও বহু বছরের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী উন্নতির সাক্ষী হচ্ছিল।
2
16
বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এবং বাজারের ওঠানামা থেকে সুরক্ষা পেতে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকছিলেন মূল্যবান ধাতুর দিকে।
3
16
তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে সোনা ও রুপোর দাম তাদের সর্বকালীন উচ্চতা থেকে নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ দুই ধাতুর দাম নিম্নমুখী ছিল। ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সোনা-রুপোর দৌড় শেষ?
4
16
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, বর্তমান পতনের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে এবং এটি আপাতত স্বাভাবিক সংশোধন বলেই মনে করা হচ্ছে।
5
16
সাম্প্রতিক পতনের অন্যতম বড় কারণ হল ‘প্রফিট বুকিং’ বা মুনাফা তুলে নেওয়া। গত এক বছরে সোনা ও রুপো বিনিয়োগকারীদের ভালো রিটার্ন দিয়েছে। ফলে অনেকেই এখন লাভ নিশ্চিত করতে নিজেদের হোল্ডিংয়ের একটি অংশ বিক্রি করছেন।
6
16
বাজারে যখন কোনও সম্পদের দাম খুব দ্রুত বাড়ে, তখন কিছুটা সংশোধন বা দাম কমা স্বাভাবিক ঘটনা। এই বিক্রির চাপই বর্তমানে সোনা ও রুপোর দামে প্রভাব ফেলছে।
7
16
সাধারণত মার্কিন ডলার এবং সোনা-রুপোর দামের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক দেখা যায়। সম্প্রতি বিশ্বের অর্থনৈতিক তথ্য এবং সুদের হার সংক্রান্ত প্রত্যাশার কারণে ডলার কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে।
8
16
ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা ও রুপো তুলনামূলকভাবে বেশি দামী হয়ে ওঠে। এর ফলে চাহিদা কমে এবং দামও চাপে পড়ে।
9
16
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯১-৯৩ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তেলের চড়া দাম মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ বাড়ায় এবং ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের ব্যয়ও বৃদ্ধি করে।
10
16
যদিও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা অনেক সময় সোনার পক্ষে ইতিবাচক হয়, তবে তেলের উচ্চ মূল্য বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করে। ফলে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন, যার প্রভাব পড়ছে মূল্যবান ধাতুর বাজারে।
11
16
সোনার দাম যদি আবার ১.৫০ লক্ষ টাকার উপরে উঠে যেতে পারে, তাহলে বাজারের মনোভাব ইতিবাচক হতে পারে এবং দাম ১.৫৪-১.৫৫ লক্ষ টাকার দিকে যেতে পারে।
12
16
তবে দাম যদি ১.৪৬ লক্ষ টাকার নিচে নেমে যায়, তাহলে বিক্রির চাপ আরও বাড়তে পারে এবং তা ১.৪৫ লক্ষ থেকে ১.৪৩ লক্ষ টাকার দিকে চলে যেতে পারে।
13
16
রুপোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের চাপ দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক র্যালির পর বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা রুপোর দামেও প্রভাব ফেলেছে।
14
16
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে বিক্রি করা উচিত নয়। স্বল্পমেয়াদি সংশোধন বাজারের স্বাভাবিক অংশ। পাশাপাশি নিজের পোর্টফোলিও পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে সম্পদের ভারসাম্য বজায় রাখা যেতে পারে।
15
16
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য ধাপে ধাপে বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ বাজারের সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ স্তর নির্ভুলভাবে অনুমান করা কঠিন। নিয়মিত বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে ওঠানামার প্রভাব কমানো সম্ভব।
16
16
সব মিলিয়ে, সোনা ও রুপোর সাম্প্রতিক পতন উদ্বেগের কারণ হলেও এর পিছনে মূলত মুনাফা বুকিং, শক্তিশালী ডলার, তেলের উচ্চ দাম এবং সতর্ক বিনিয়োগ মনোভাব কাজ করছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।