আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের কাজে অধ্যাপক নিয়োগ করা হবে। মঙ্গলবার সিঙ্গল বেঞ্চের রায় কার্যত খারিজ করে দিল ডিভিশন বেঞ্চ। কমিশনের সিদ্ধান্তকেই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিল হাই কোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ।

 

ভোটে প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে কাজের জন্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব দেয় নির্বাচন কমিশন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কমিশনের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে সহকারী অধ্যাপকদের একাংশ। শুক্রবার সেই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চে। কলেজ শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সমিতির দায়ের করা রিট পিটিশন মঞ্জুর করার সময় বিচারপতি বলেন, “কমিশন নিজেই তার ২০১০ সালে ১৬-১৭ তারিখের সার্কুলার লঙ্ঘন করছে। ওই সার্কুলারে বলা হয়েছিল যে, জেলা নির্বাচন আধিকারিক লিখিতভাবে নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করলে, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক-সহ গ্রুপ ‘এ’ সমতুল্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সাধারণত ভোটকেন্দ্রের ভিতরে ভোটগ্রহণের দায়িত্বে নিযুক্ত করা যাবে না।”

প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে কলেজ শিক্ষকদের নিয়োগ বাতিল করে আদলতের পর্যবেক্ষণ, “কমিশন এমন কোনও নথি পেশ করতে পারেনি যা থেকে বোঝা যায় যে কমিশন তার ভিত্তিতে আবেদনকারীদেরকে ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

শুনানির সময়, কমিশনের আইনজীবী জানান যে, ২০২৩ সালের ৭ জুন জারি করা একটি সার্কুলার পূর্বের নির্দেশিকাকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োগের জন্য বেতন স্কেল, পদমর্যাদা ও মর্যাদার উপর ভিত্তি করে একটি বৃহত্তর কাঠামো চালু করেছে।

 

তবে, আইনজীবির যুক্তিতে সন্তুষ্ট হননি বিচারপতি রাও। কমিশনের আইনজীবির যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, “আদালত দেখতে পাচ্ছে যে ২০২৩ সালের ৭ জুনের সার্কুলারে ২০১০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির সার্কুলারের কোনও উল্লেখ নেই। সুতরাং, এটা বলা যায় না যে ২০১০ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারির সার্কুলারটি বাতিল হয়ে গিয়েছে।”

 

এরপরেই আদালত জানিয়ে দেয় কলেজের শিক্ষকদের জন্য আগের যে ব্যবস্থা কার্যকর ছিল, তাই থাকবে। আদালত আরও উল্লেখ করে যে, গত ১৩ এপ্রিল যখন মামলাটির শুনানি হয় তখন কমিশনের আইনজীবি কারণ দর্শানোর জন্য সময় চেয়েছিলেন। ১৬ এপ্রিল মামলাটির শুনানির সময়ও কোনও নথি দাখিল করা হয়নি। ‘একাধিক সুযোগ’ দেওয়া সত্ত্বেও নথি পেশ করতে ব্যর্থ কমিশন।

 

আবেদনকারীদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ বাতিল করার সময় আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, যে সকল শিক্ষক ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং এখনও এই দায়িত্ব পালনে ইচ্ছুক, তাঁরা তাঁদের পদে বহাল থাকতে পারবেন।

 

এর পরই কমিশন সিঙ্গল বেঞ্চের রায় চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করে। মঙ্গলবার ছিল সেই মামলার শুনানি। শুনানিতে সওয়াল-জবাবের পর ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, সহকারী অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে নিয়োগের ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে। সিঙ্গল বেঞ্চ যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা স্থগিত করা হচ্ছে।