মিল্টন সেন, হুগলি: শ্রীরামপুরের গয়নার শোরুমে চুরির ঘটনায় পুলিশের জালে শোরুমের ম্যানেজার। বিপুল পরিমাণ গয়না চুরির নেপথ্যে ছিল গয়না বিপনির হাইটেক ম্যানেজার। বৃহস্পতিবার চন্দননগর কমিশনারেটের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট এবং শ্রীরামপুর থানার ৮ জনের একটি টিম অভিযান চালিয়ে দার্জিলিংয়ের একটি হোটেল থেকে সুবীর কুমার দাসকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে খবর, শোরুমের সেই সময়কার ম্যানেজার সুবীরের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ এলাকায়। শুক্রবার তাঁকে শ্রীরামপুর আদালতে তুলে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। 

এই প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার যাদব জানিয়েছেন, এই ঘটনায় রক্ষক নিজেই ছিল ভক্ষক। এবং অসম্ভব চালাক। তাই শুরুতে পুলিশকে কিছুটা অস্বস্তির মধ্যে পড়তে হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু তিনি কম যান না। তিনি নিজেও আইআইটি পাশ আউট, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে যথেষ্টই পারদর্শী। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনা ঘটেছে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে। ক্রমাগত শোরুমে চুরি করে গিয়েছেন ম্যানেজার। তারপর হটাৎ   নিখোঁজ। ঘটনার অভিযোগ দায়ের হয় মার্চ মাসে। তখন নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছিল, তাই কিনারা করতে একটু বিলম্ব হয়েছে। 

পুলিশ কমিশনার আরও জানিয়েছেন, নির্বাচনের কারণে তদন্তের শুরুতে একটু অসুবিধে হয়েছে ঠিকই। তবু একটি সিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করা হয়। সেখানে ছিলেন ডিসি ডিডি, এডি সিপি ডিডি, পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং তিনি নিজে। তাঁর নেতৃত্ত্বে নির্বাচনের মধ্যে অনেক অসুবিধে সত্ত্বেও তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হয়। অনুমান করা হয়েছিল অভিযুক্ত দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারে। তাই অভিযুক্ত ম্যানেজারের নামে লুক আউট নোটিশ জারি করা হয়। পাশাপাশি অভিযুক্তের হদিশ করতে হাই লেবেলের টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়। অবশেষে অভিযুক্তের হদিশ মেলে উত্তরবঙ্গে। দার্জিলিংয়ের হোটেল থেকে অভিযুক্ত সুবীরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেছেন, “ভয় আউট, ভরসা ইন। এই সমাজে অপরাধীদের আর কোনও জায়গা নেই।” প্রশাসনের সকল আধিকারিক, ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।