আজকাল ওযেবডেস্ক: মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে পিঠেপুলি উৎসব বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক। ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন নামে মকর সংক্রান্তি উদযাপিত হলেও এই উৎসবের মূল তাৎপর্য প্রকৃতি ও কৃষির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
এই দিনে সূর্যের উত্তরায়ণ শুরু হয় এবং দিন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। পুরাণ মতেও এই দিনটির বিশেষ ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্ব রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, রাজধানী আগরতলার ডুকলি এলাকার বল্লভপুর স্কুল প্রাঙ্গণে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে সাতদিনব্যাপী পিঠেপুলি উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উৎসবের উদ্বোধন করে কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, ‘ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতিটি উৎসবই সুপরিকল্পিত এবং প্রকৃতি ও কৃষিভিত্তিক। আমাদের পূর্বপুরুষরা পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ অটুট রাখতে বছরের বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের উৎসবের সূচনা করেছিলেন।’
তিনি আরও জানান, কৃষকরা যে কেবল চাষবাসই করেন তা কিন্তু নয়, তারাই সভ্যতার ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘আধুনিক হওয়া ভাল, কিন্তু নিজের শিকড় ভুলে যাওয়া উচিত নয়। সেই লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার নবীন প্রজন্মকে ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখতে বছরব্যাপী এই ধরনের উৎসবের আয়োজন করছে।'
তিনি সাধারণ মানুষের বর্তমান খাদ্যাভ্যাসের প্রসঙ্গে বলেন, ‘ফাস্ট ফুডে আসক্তির ফলে নবীন প্রজন্ম নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, অথচ আমাদের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশবান্ধব খাদ্যাভ্যাস সুস্থ জীবনযাপন করতে সাহায্য করে। এই উৎসবগুলির মাধ্যমে সেটা নতুন করে উপলব্ধি করা প্রয়োজন।’
ডুকলি আরডি ব্লকের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে ১০টি সরকারি প্রদর্শনী স্টলসহ মোট ১০২টি স্টল খোলা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ত্রিপুরা বিধানসভার উপাধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল বলেন, ‘পিঠেপুলি উৎসব বাঙালি হিন্দু সমাজের একটি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উৎসব, যা ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে। পিঠেপুলির মতো ঐতিহ্যবাহী খাদ্যকে নবীন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, ‘ফাস্ট ফুডের যুগে ঐতিহ্য রক্ষার জন্য পিঠেপুলি উৎসবের মতো আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকার পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি স্বরোজগারের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে মানুষের সার্বিক বিকাশের মাধ্যমে ‘শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা’ গড়ে তোলা যায়।’
জানা গিয়েছে, এই উৎসব চলবে আগামী ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকাল ৩টে থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। মেলায় প্রতিদিন গ্রামীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংবর্ধনা এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
পাশাপাশি প্রতিদিন নির্বাচক কমিটি পিঠেপুলি উৎসবে অংশগ্রহণকারী স্বসহায়ক দলগুলির মধ্যে থেকে সেরা তিনটি দলকে পুরস্কৃত করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডুকলি পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান ভুলন সাহা, আগরতলা পুরনিগমের মেয়র ও বিধায়ক দীপক মজুমদার, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ডা. বিশাল কুমার, ডুকলি আরডি ব্লকের বিডিও মানিক দেববর্মা, বিশিষ্ট সমাজসেবী মান্তু দেবনাথ সহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা।
