আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্রেফ খেলার ছলে গায়ে লাঠি লেগেছিল। আর সেই ‘অপরাধে’ এগারো বছরের এক স্কুলপড়ুয়াকে নৃশংসভাবে অত্যাচারের অভিযোগ উঠল এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। মারধরের পর শিশুটিকে বিবস্ত্র করে, পা বেঁধে ঘরের আড়কাঠ থেকে উল্টো ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ।

শুধু তাই নয়, সেই অমানবিক অত্যাচারের দৃশ্য মোবাইলে ক্যামেরাবন্দিও করে রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে জয়নগর থানার অন্তর্গত ধোষা-চন্দনেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব চন্দনেশ্বর গ্রামে।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রতিবেশী তপন হালদার সপরিবার পলাতক। পুলিশ এখনও কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। আক্রান্ত শিশুটি পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। বর্তমানে সে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দিনকয়েক আগে জয় শিকারি নামের ওই ১১ বছরের শিশুটি পাড়ার বাকি বন্ধুদের সঙ্গে খেলছিল। সেই সময় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন তপন হালদার নামে এক ব্যক্তি। আচমকাই খেলার ছলে বাচ্চাদের ঠেলাঠেলির মধ্যে জয়ের হাতের একটি লাঠি গিয়ে লাগে তপনের গায়ে। অভিযোগ, এতেই মারাত্মক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তপন। তিনি তখনই ওই নাবালকের চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে বেশ কিছু দূর নিয়ে যান। এরপর প্রকাশ্য রাস্তায় কান ধরে ওঠবোস করান।

কিন্তু তাতেও রাগ কমেনি অভিযুক্তের। পরিবারের দাবি, এরপর জয়কে নিজের বাড়িতে তুলে নিয়ে যান তপন। সেখানে ঘরের আড়কাঠের সঙ্গে পা বেঁধে তাকে উল্টো করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। খুলে নেওয়া হয় পরনের প্যান্ট। এই অবস্থায় তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। 

আরও অভিযোগ, তপন যখন এই কাণ্ড ঘটাচ্ছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী, পরিবারের বাকি সদস্য এবং কয়েকজন প্রতিবেশী। কেউ শিশুটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি, উল্টে গোটা অত্যাচারের দৃশ্য মোবাইলে রেকর্ড করা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে ক্ষতি করা হবে বলে শিশুটিকে হুমকিও দেওয়া হয়।

ভয়ে ও আতঙ্কে সে রাতে বাড়ি ফিরে কাউকেই কিছু জানায়নি ওই ছাত্র। কিন্তু তার শরীরে কালশিটে ও একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখে পরিবারের সন্দেহ হয়। বারবার জিজ্ঞাসা করলেও ভয়ে কুঁকড়ে থাকা শিশুটি মুখ খোলেনি। 

পরে পরিবারের এক সদস্য অভিযুক্তদের মোবাইল থেকে ছড়িয়ে পড়া সেই নৃশংস ভিডিওটি দেখতে পান। তখনই গোটা ঘটনাটি জানাজানি হয়।

আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার মাথার সিটি স্ক্যান এবং বুকের এক্স-রে করা হয়েছে। বর্তমানে সে বাড়িতে থাকলেও শরীরিক ও মানসিকভাবে এখনও সুস্থ হয়ে উঠতে পারেনি। শরীরে তীব্র যন্ত্রণা থাকায় স্কুলেও যেতে পারছে না সে।

এদিকে ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার। ঘটনার পরই পরিবারের তরফে প্রথমে ধোষা পুলিশ ক্যাম্প এবং পরে জয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। 

জানা গিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই বাড়ি তালাবন্ধ করে গা-ঢাকা দিয়েছে অভিযুক্ত তপন হালদার ও তার পরিবার। ঘটনার বেশ কিছু দিন কেটে গেলেও পুলিশ কেন এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারল না, তা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন আক্রান্ত শিশুর পরিজনেরা। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে স্থানীয় বাসিন্দারাও। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।