আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরে এক মহিলা বিজেপি সমর্থকের উপর নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ওই মহিলাকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে এনে একটি লাইটপোস্টে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে। 


শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যেই তাঁর চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। আরও অভিযোগ, গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা করা হয় এবং ব্লেড দিয়ে জিভ কেটে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে নরেন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।


পরিবারের দাবি, এই ঘটনার পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিবাদ। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রথমবার আক্রান্ত হন ওই মহিলা ও তাঁর স্বামী। সেই সময়ও তাঁদের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। মারধরের পর প্রাণভয়ে ঘরছাড়া হয়ে পড়ে পরিবারটি। কয়েকদিন অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার পর পুলিশের তৎপরতায় ৯ সেপ্টেম্বর তাঁরা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে সক্ষম হন। কিন্তু বাড়ি ফেরার পরও তাঁদের উপর হুমকি, ভয় দেখানো এবং বিভিন্নভাবে অত্যাচার চলতে থাকে বলে অভিযোগ।


আক্রান্ত পরিবারের দাবি, শুক্রবার ফের একদল দুষ্কৃতী তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়। মহিলাকে জোর করে টেনে বাইরে বের করে আনা হয়। এরপর তাঁকে একটি লাইটপোস্টে বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। অভিযোগ, উপস্থিত মানুষের সামনেই তাঁর চুল কেটে সম্পূর্ণ ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। শুধু শারীরিক নির্যাতনই নয়, তাঁকে অপমান করার উদ্দেশ্যেই এই কাজ করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।


অভিযোগ আরও গুরুতর। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা মহিলার গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা করে। এমনকি ব্লেড দিয়ে তাঁর জিভ কেটে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। কোনওক্রমে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগে ওই মহিলাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় বলে দাবি পরিবারের। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।


পরিবারের অভিযোগ, হামলায় জড়িতরা প্রত্যেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক ফিরদৌসি বেগম এবং তাঁর স্বামীর অনুগামী। তাঁদের মদতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে আক্রান্ত পরিবার। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ফিরদৌসি বেগমের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও উত্তর মেলেনি।


ঘটনার পর নরেন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।


ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিজেপির অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তাঁদের মহিলা সমর্থককে পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।
এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় উত্তেজনা ছিল। একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ। 


ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং অভিযোগের কতটা সত্যতা রয়েছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। আপাতত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতির উপর প্রশাসন নজর রাখছে। 

&t=1s