আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার এক ঝটিকা সফরে মুর্শিদাবাদ জেলায় এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন সোমবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গে চালু হয়ে যাচ্ছে 'গুন্ডা দমন আইন এবং প্রেভেন্টিভ অ্যারেস্ট আইন'। এর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ইতিমধ্যেই রাজ্যপাল দিয়েছেন।
তবে এই আইনের বিরোধিতা যে কংগ্রেস করবে তা শনিবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী।
আজ অধীর চৌধুরী বলেন, "গুন্ডা দমন আইনের বিরোধিতা আমরা করছি। এই আইনের বিরুদ্ধে হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট সবই হবে। এই আইন দমনমূলক এবং অনৈতিক। এই আইন পশ্চিমবঙ্গে চালু না হওয়াই উচিত। এই আইন মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার আইন।"
রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত এই আইনকে 'ড্রেকোনিয়ান ল' হিসেবে অভিহিত করে অধীর চৌধুরী বলেন, "উত্তরপ্রদেশ সরকার এই ধরনের আইন প্রণয়ন করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে তারা ঠোক্কর খেয়েছে এখানেও একই হবে।"
অন্যদিকে মুর্শিদাবাদ জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে ধুলিয়ান, সামশেরগঞ্জ, বেলডাঙ্গা, রেজিনগর, শক্তিপুরের মতো একাধিক দাঙ্গার ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এবং গতকাল মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে যেভাবে খোলা হাতে এবং নির্ভয়ে কাজ করতে দিয়েছেন সেই প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, "শক্তিপুরের দাঙ্গার কারণেই আমি হেরেছি। যদিও সেই দাঙ্গাকারী এবং দাঙ্গার মদতকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশকে এত 'ছুট' দেওয়া হলে আমার আপনার সকলের বিপদ বাড়বে।"
সাংবাদিক বৈঠকে প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ আজ ফের একবার বারুইপুরের এনকাউন্টারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের বক্তব্য অনেক জায়গায় মানুষ সমর্থন করছেন না। হত্যা হোক, মৃত্যু হোক, পালাতে গিয়ে গুলি খাওয়া হোক কিন্তু পুলিশের রিভলভার কেড়ে একজন পালাতে গিয়ে মারা গেল। অথচ গুলি তার পিঠে লাগার বদলে বুকে লাগছে। রাতের বেলায় সেই জঙ্গলে অভিযুক্তকে নিয়ে যেতে হচ্ছে। পুলিশ দিনের বেলায় নিয়ে যায়নি। কারণ দিনের বেলায় নিয়ে গেলে মানুষের কাছে প্রমাণ থাকত।"
তিনি বলেন, "বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এবং ভিডিওতে যে ধরনের তত্ত্ব উঠে আসছে, তাতে অনেক প্রশ্ন উঠছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে আগামী দিন নিজেদের আরও বেশি স্বচ্ছতা এবং যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে। এভাবে যা খুশি তাই বাংলায় করা যাবে না এবং প্রশাসন যা বলবে তাই বাংলার মানুষ মেনে নেবে না।"
অধীর চৌধুরী আরও বলেন, "কোথায় মৌলবাদ, অপরাধী, জেহাদী আছে সেগুলো সরকার এবং তদন্তকারী সংস্থা দেখবে। এগুলো নিয়ে আমি কিছু বলতে পারি না। কিন্তু বারুইপুরের ঘটনায় আমার নিজের মধ্যেও অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।"
প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অভিযোগ করেন, "বারুইপুরের ঘটনার পর সেখানে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দমন পীড়ন চলছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী প্রমাণ করুক উনি সকলের মুখ্যমন্ত্রী।"
পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের মিড ডে মিলে ডিম বন্ধ করার সম্ভাবনা নিয়েও মুখ খোলেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, "ডিম বন্ধ হলে আরও ছাত্র-ছাত্রী স্কুল থেকে পালাবে। বাংলায় এসব করে লাভ হবে না। ডিম দেওয়ার উদ্দেশ্যই হল এর আকর্ষণে বাচ্চারা স্কুলে আসবে। খিদে মেটাতে এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর জন্যই মিড ডে মিল চালু করা হয়েছে।"















