আজকাল ওয়েবডেস্ক: গৃহপ্রবেশের অনুষ্ঠান ঘিরে আনন্দের প্রস্তুতি চলছিল পরিবারে। কিন্তু সেই আনন্দের মুহূর্ত নিমেষে বদলে গেল গভীর শোকে। গঙ্গাজল ও গঙ্গামাটি আনতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হল দুই বোন।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরের মঙ্গল পান্ডে ঘাটে। নিখোঁজ দুই বোনের নাম আঁচল ঠাকুর (২০) ও কোমল ঠাকুর (১৮)। ইতিমধ্যেই একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, অন্যজনের খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১ মে তাঁদের নতুন বাড়ির গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠান ছিল। সেই উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ভোরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গঙ্গাজল ও গঙ্গামাটি সংগ্রহ করতে যান আঁচল ও কোমল।
পরিবারের সদস্যরা গঙ্গার ধারে দাঁড়িয়েই জল নিচ্ছিলেন। কিন্তু এরপর আঁচল ও কোমল কিছুটা নিচে নেমে স্নান করতে যান। আচমকাই পা পিছলে গিয়ে মুহূর্তের মধ্যে গভীর জলে তলিয়ে যান তাঁরা।
এই ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি, স্থানীয়রাও ছুটে আসেন সাহায্যে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন।
তবে গঙ্গার প্রবল স্রোত এবং জোয়ারের কারণে উদ্ধারকাজে প্রাথমিক ভাবে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল উদ্ধারকাজে। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর ব্যারাকপুরের অন্নপূর্ণা ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে একজনকে উদ্ধার করা হয়।
দ্রুত তাঁকে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে তিনি এখন কেমন আছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে, আর এক বোন কোমলের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি।
তাঁকে খুঁজে বের করতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পরিবারের এক সদস্য জানান, ‘দু’জনেই স্নান করতে গিয়েছিল। হঠাৎ পা পিছলে পড়ে যায়। আমরা অনেক ডাকাডাকি করেছি, কিন্তু কোনও সাড়া পাইনি। পরে খবর দেওয়া হলে উদ্ধারকারী দল আসে। আমাদের মনে হয়েছে, একটু দেরিতেই তারা পৌঁছয়।’
এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষোভও প্রকাশ করেছে পরিবার। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এই দুর্ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
উল্লেখ্য, চলতি মাসেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল হুগলির উত্তরপাড়ায়। পঞ্চাননতলা ঘাটে গঙ্গায় স্নান করতে নেমে তলিয়ে যায় অঙ্কুশ দত্ত নামে এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী।
বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে স্নান করতে গিয়ে সেও স্রোতের টানে তলিয়ে যায়। সেই ঘটনাও এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটায় প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
ঘাটে পর্যাপ্ত লাইফগার্ড বা নিরাপত্তা কর্মী না থাকায় ঝুঁকি বাড়ছে বলেই মত স্থানীয়দের। বিশেষজ্ঞদের মতে, জোয়ারের সময় বা নদীতে স্রোত থাকলে স্নান এড়িয়ে যাওয়া উচিত। অন্যদিকে, নিখোঁজ কোমল ঠাকুরের খোঁজে এখনও জোরকদমে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।















