আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি মাসের ২৪ তারিখ দুটি অভিযোগের ভিত্তিতে তোলাবাজি, হুমকি ও ২১শে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অজিত সাহা এবং গভীর রাতে তাঁর ভাই সুজিত কুমার সাহাকে গ্রেপ্তার করা হল। পুলিশ হেফাজত চেয়ে বৃহস্পতিবার তাদেরকে বারাসত আদালতে তোলা হবে। গোবরডাঙা থানার পুলিশ অজিত সাহার বাড়িতে হানা দেয়। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
সুজিত কুমার সাহার অনুষ্ঠানগৃহে হানা দিয়ে ২৬ লক্ষ টাকা, ৬১৬টি কার্তুজ, ১টি এয়ার পিস্তল, ১টি লং এয়ার গান, ৫২ বোতল বিদেশী মদ ও ৬১টি গুলির খোল উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এলাকায় জমির ব্যবসা করতেন সুজিত সাহা। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে অজিত সাহার দলীয় প্রভাবের জোরে সুজিত সাহার এই জমি কারবার ফুলেফেঁপে ওঠে। বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের বাড়বাড়ন্তের সময় একদল সমাজবিরোধী ও জমি মাফিয়াদের সঙ্গে নিয়ে কম দামে একলপ্তে জমি কিনে প্লটে প্লটে বিক্রি করা শুরু করেন।
অভিযোগ, সেখান থেকেই ব্যবসার পরিধি বেড়ে যায়। জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া নজরদারির ফলে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী আসা কম হওয়ায় বহু জমি এখনও অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই মুখ খুলছেন অনেকে। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, বিএলআরও-দের একাংশদের মদতে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর ভরাট করেছে সুজিত সাহা।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক মহলে চর্চা ছিল, হাবরার প্রাক্তন বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে অজিত সাহা হাবরা ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হন। এরপর তিনি পঞ্চায়েত নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা পরিষদে গাইঘাটা ব্লক থেকে দাঁড়িয়ে জয়লাভ করেন এবং জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ কর্মাধ্যক্ষ পদ পান। কয়েক মাস আগে মছলন্দপুরের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিএলআরও অমল রায় এবং অজিত সাহা-র মধ্যে মনোমালিন্য হয়। সেই সময়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছিল অজিত সাহার বিরুদ্ধে।















