আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে এক জন নার্স এবং এক চিকিৎসককে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই দু’জন নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত নার্সদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তাঁদের লালার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। দু’জনকেই পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। দুজনেই সন্দেহজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে। নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত কি না এখনও নিশ্চিত নয়। টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলে তবেই বলা যাবে।
নিপা আক্রান্ত দুই নার্স বর্তমানে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের এক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের দু’জনেরই অবস্থা সঙ্কটজনক বলে জানা গিয়েছে। উভয়েই রয়েছেন ভেন্টিলেশনে। নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘিরে উদ্বেগ দানা বাঁধতেই ‘কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং’-এর কাজ শুরু হয়েছে। অর্থাৎ, সংক্রমিতেরা কোথায় কোথায় গিয়েছেন এবং কাদের সংস্পর্শে এসেছেন তা চিহ্নিত করার সময়ই এক নার্স এবং এক চিকিৎসককে চিহ্নিত করা হয়।
সূত্রের খবর, সংক্রমিতদের সংস্পর্শে আসা নার্সকে বর্ধমান থেকে নিয়ে এসে মঙ্গলবার রাতেই বেলেঘাটা আইডি-তে ভর্তি করা হয়েছে। সংক্রমিতদের সংস্পর্শে আসা চিকিৎসক দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা। তাঁকে বুধবার সকালে আইডি-তে ভর্তি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, আক্রান্তরা সম্প্রতি বর্ধমানে গিয়েছিলেন। তাঁদের সংস্পর্শে কারা এসেছিলেন, সেই সংক্রান্ত সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করা হয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. জয়রাম হেমব্রম জানিয়েছেন, সংক্রমিত সংস্পর্শের এসেছেন এ রকম ৪৮ জন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।
বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য ও তৃণমূল কাউন্সিলর স্বপন সমাদ্দার জানিয়েছেন, হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে অধ্যক্ষ, সুপার ও অন্যান্য চিকিৎসকদের সঙ্গে নিপা ভাইরাস মোকাবিলায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে হাসপাতালে আলাদা একটি ওয়ার্ড তৈরি করার। সেখান ১০টি এমার্জেন্সি শয্যা, সিসিউ'র জন্য দু’টি শয্যা এবং ৬৮টি সাধারণ শয্যা। চিকিৎসকদের এর আগে করোনা মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা আছে। সেই অভিজ্ঞতা এই রোগের মোকাবিলায় তাঁরা কাজে লাগাতে পারবেন। সকলকে অনুরোধ কেউ যেন আতঙ্কিত না হন। কলকাতায় একটি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, সন্দেহ হলেই রোগীকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে দু’টি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে। নম্বর দু’টি হল 033-2333-0180 এবং 98747 08858। স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ভাইরাসের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শণাক্তকরণ শুরু করা হয়েছে। ভাইরাসের বিস্তার রোধে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি (SOP) বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গোটা বিষয়টি নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অযথা আতঙ্কিত না-হয়ে, সকলকে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে।
