আজকাল ওয়েবডেস্ক: চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাফল্যের তালিকায় আরও এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় যুক্ত করল শিলিগুড়ির নিওটিয়া গেটওয়েল মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল। গর্ভাবস্থাতেই শনাক্ত হওয়া এক বিরল ও জটিল জন্মগত সমস্যায় আক্রান্ত নবজাতকের সফল অস্ত্রোপচার করে কার্যত নতুন জীবন উপহার দিলেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
নবজাতকটি জন্ম নেয় ৩৬ সপ্তাহে, ওজন ছিল ২.৩২ কেজি। এলএসসিএস পদ্ধতিতে জন্মের পরই চিকিৎসকদের নজরে আসে শিশুটির পেটের গহ্বরের বাইরে অন্ত্রের অংশ বেরিয়ে থাকার বিষয়টি—যা গ্যাস্ট্রোস্কিসিস নামক এক বিরল জন্মগত সমস্যার স্পষ্ট লক্ষণ। জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হয়।
পরবর্তীতে শিশুটির শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে নন-ইনভেসিভ ভেন্টিলেশনের সাহায্য নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, আইভি ফ্লুইড, অ্যান্টিবায়োটিক সহ সবরকম সাপোর্টিভ কেয়ার নিশ্চিত করা হয়। ইকোকার্ডিওগ্রাফিতে হৃদযন্ত্রে সামান্য ত্রুটি ধরা পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক ছিল।
জন্মের মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটিকে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের সময় দেখা যায়, শিশুটির পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্র এবং গলব্লাডার সম্পূর্ণভাবে পেটের বাইরে অবস্থান করছে এবং পেটের গহ্বর যথেষ্ট পরিমাণে গঠিত নয়। পাশাপাশি অ্যাবডোমিনাল কম্পার্টমেন্ট সিনড্রোমের ঝুঁকি থাকায় চিকিৎসকরা ধাপে ধাপে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন।
অস্ত্রোপচারের পর অঙ্গগুলি নিরাপদভাবে স্থাপন করার পর কেবল সেলাই করে দেন চিকিৎসকরা। যা এই ধরনের জটিল ক্ষেত্রে একটি সুপরিকল্পিত ও বিজ্ঞানসম্মত সিদ্ধান্ত। অস্ত্রোপচারের চার দিনের মাথায় শিশুটিকে ভেন্টিলেশন থেকে মুক্ত করা সম্ভব হয়। ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটে। দশম দিনে পাকস্থলীর নিঃসরণ কমে আসে এবং চোদ্দো দিনের মাথায় শুরু হয় ওরোগ্যাস্ট্রিক ফিড। অবশেষে ২৩ দিনের মাথায় শুধুমাত্র মায়ের দুধের ওপর নির্ভরশীল অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই সাফল্যের নেপথ্যে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শিশু সার্জন ডা. মানিশ মাধব, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ ডা. বিজন পাটুয়া, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নূপুর বাজাজ এবং অ্যানাস্থেসিওলজিস্ট ডা. হিরণ্ময় রায়।
এই ঘটনা শুধু একটি অস্ত্রোপচারের সাফল্য নয়—এটি আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা, দক্ষতা ও দলগত সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। উত্তরবঙ্গে বসেই এমন বিরল ও জটিল চিকিৎসা সম্ভব হওয়া নিঃসন্দেহে চিকিৎসাক্ষেত্রে এক আশার আলো।
