আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগেই ওবিসি সংরক্ষম ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছিল। সোমবার ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে দু'টি সংশোধনী বিল পাশ হল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান এসসি অ্যান্ড এসটি) রিজার্ভেশন অফ ভ্যাকেন্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্টস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ ধ্বনি ভোটে পাশ হলেও ‘পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এর উপর ভোটাভুটি হয়।

নয়া বিল অনুসারে, বর্তমানে ওবিসি ক্যাটেগরি ‘এ’-এর আওতায় থাকা ৬৫টি জনগোষ্ঠীর তালিকায় কোনও আদলবদল হয়নি। তবে তৃণমূল সরকারের আমলে ক্যাটেগরি ‘বি’-তে অন্তর্ভুক্ত ৭৮টি জনগোষ্ঠীর তালিকা সম্বলিত শিডিউল-২ সম্পূর্ণ বাদ।  এছাড়া শিডিউল-৩-ও আইনের অংশ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
 
রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে বামফ্রন্ট সরকার রাজ্যে ওবিসি সংরক্ষণ চালু করে। তখন অনগ্রসরতার মাত্রার ভিত্তিতে ক্যাটেগরি ‘এ’ ও ‘বি’- এই দু'টি ভাগে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় এবং যথাক্রমে ১০ শতাংশ ও ৭ শতাংশ সংরক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে ২০১২ সালে তৃণমূল সরকার আইনে সংশোধন এনে ক্যাটেগরি ‘এ’-তে ৬৫টি এবং ক্যাটেগরি ‘বি’-তে ৭৮টি জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে। সেই তালিকায় তফশিলি জাতি থেকে ধর্মান্তরিত খ্রিস্টানদেরও রাখা হয়েছিল।

গেরুয়া বাহিনীর দাবি করে, আগের সরকার ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির স্বার্থে সংরক্ষণ নীতিকে ব্যবহার করেছিল। বিজেপি সরকার হাইকোর্টের রায়কে মান্যতা দিয়ে সংরক্ষণের তালিকা পুনর্যাচাই করতেই এই সংশোধনী বিল এনেছে।

একনজরে এই বিলগুলিতে কী রয়েছে? 

এখন ওবিসি বলতে পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন আইন, ১৯৯৩ অনুযায়ী 'অনগ্রসর শ্রেণি' হিসেবে চিহ্নিত শ্রেণিগুলিকেই বোঝানো হবে। বাতিল করা হয়েছে এই আইনের 'শিডিউল-২' ও 'শিডিউল-৩'। এছাড়া, এই বিলে অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের কার্যকারিতা আরও স্পষ্ট ও শক্তিশালী করা। 

'অনগ্রসর শ্রেণি' মিশনের সদস্য-সচিব পদে যোগ্যতার পরিবর্তন করা হল। বিদ্যমান আইনে সদস্য-সচিব হিসেবে ‘সেক্রেটারি’ পদমর্যাদার আধিকারিকের কথা বলা ছিল। সংশোধনীতে তা বদলে ‘জয়েন্ট সেক্রেটারি বা তার ঊর্ধ্বতন’ পদমর্যাদার আধিকারিককে নিয়োগ সিলমোহর দিয়েছে। 

পাশ হওয়া বিলে রাজ্য সরকার পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে বিভিন্ন ওবিসি শ্রেণির আপেক্ষিক পশ্চাৎপদতার ভিত্তিতে কত শতাংশ সংরক্ষণ হবে, তা নির্ধারণ করবে।

মোট সংরক্ষণের সর্বোচ্চ সীমা: সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংরক্ষণের শতাংশ বাড়ানো যেতে পারে। তবে এসসি + এসটি + ওবিসি মিলিয়ে মোট সংরক্ষণ ৫০ শতাংশের বেশি হবে না। এই সীমা বিলে উল্লেখ রয়েছে।