আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর থেকে তৃণমূলে কার্যত ঘর ভাঙার খেলা চলছে। মমতাপন্থী কারা আর ঋতব্রতপন্থী কারা, তা মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। আর তাতেই দেখা যাচ্ছে, নতুন-পুরনো অনেক নেতাই মমতার সঙ্গ ছাড়লেও মদন মিত্র-কুণাল ঘোষের মতো কিছু নেতা এখনও নেত্রীর সঙ্গেই রয়ে গিয়েছেন। এবার বিধানসভায় মমতাপন্থী দুই বিধায়ককে পাওয়া গেল হালকা মেজাজে। মদন মিত্রের সঙ্গে নিজের ছবি শেয়ার করে কিছুটা মশকরাও করলেন কুণাল ঘোষ।
কী লিখেছেন কুণাল? দুজনের ছবি শেয়ার করে কুণাল লিখলেন, ''বিধানসভায় আজ মদন মিত্র। বলল, আজ জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা। তাই সেজেগুজে এসেছে। ওওওওও লাভলি।''
সোমবার যদিও এই পোস্টের আগে ফেসবুকে আরও একটি পোস্ট করেন কুণাল ঘোষ। বিধানসভা ভোটের ফলাফলে ধরাশায়ী তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যপাট গিয়েছে। এরপরই শুরু জোড়া-ফুলে ভাঙন ধরেছে! দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ষাটের বেশি বিধায়ক এখন 'বিদ্রোহী' শিবিরে। এর মধ্যে রয়েছে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির একদা অতি আস্থাভাজ ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসরাও। লোকসভার 'বিক্ষুব্ধ' ২০ জন সাংসদ নাম লিখিয়েছে এনসিপিআই-তে।
আপাতত বিধায়কদের মধ্য়ে কালীঘাটপন্থী তালিকায় শোভদেব চ্যাটার্জি, মদন মিত্র, বিমান ব্যানার্জি, কুণাল ঘোষরাই। ইতিমধ্যেই ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন দলের 'বিদ্রোহী' গোষ্ঠীকে 'বেইমান' বলে তোপ দাগছেন কালীঘাটপন্থীরা। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট করেন তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক তথা দলের উত্তর কলকাতা জেলার সাগঠনিক সভাপতি কুণাল। বিধায়কের সাফ কথা, '৪ মে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার পরাজিত হওয়ার পর খারাপ লেগেছিল। নিজের দল হারলে যেমন লাগে। বেলেঘাটায় আমার জয়টাও তেমন আনন্দ দিতে পারেনি। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে যা হয়েছে, ভালো হয়েছে।'
হঠাৎ কী কারণে এই চাঁচাছোলা পোস্ট? কুণাল ঘোষ সোশাল মিডিয়া পোস্টে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। লিখেছেন, 'যদি তৃণমূল জিতত, এই বিশ্বাসঘাতকরাই স্তাবক হয়ে দিদিকে ঘিরে রাখত; যারা সুবিধেবাদী, তারাই বন্ধু সেজে আমাদের সঙ্গে মিশত; কিছু চোরডাকাত, যারা নিজেদের বাঁচাতে সাধু সাজছে, তারা আরও লাগামছাড়া চুরি করত; দলের কারুর কারুর ঔদ্ধত্য ও অহঙ্কার আরও বাড়ত; কিছু দলে ঢোকা ক্রিমিনাল বিরোধীদের উপর বাড়াবাড়িরকম দমনপীড়ন করত, দলের একাংশকেও ছাড়ত না; কিছু অরাজনৈতিক সেলিব্রিটি অকারণে মঞ্চ আলো করে বসে জনপ্রতিনিধির সুবিধে নিত; একাংশের পুলিশ, আমলা, বুদ্ধিজীবী, শিল্পমহল, হাফবুদ্ধিজীবী কিছু মুখোশধারী দলটাকে আরও ব্যবহার করে নিজেদের অঙ্ক সাজাতো। এবং প্রকৃত কর্মী, সংগঠক, শুভানুধ্যায়ীরা উপেক্ষিত থাকতেন। বুকভরা অভিমান নিয়ে দমবন্ধ অবস্থা নিয়ে পিছনের বেঞ্চে বসে দলটা করতেন।'















